লিবিয়া–ইতালি সাগরপথে ডুবে ভৈরবের আরমানসহ কয়েকজন নিহত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের আলুকান্দা গ্রামের আরমান (৩৫) ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৮ বছর মালয়েশিয়ায় থাকার পর হঠাৎ ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় দালাল জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ১২ দিন আগে নিজের জমি লিখে দিয়ে রওনা দেন ইতালির উদ্দেশে। শেষ পর্যন্ত লিবিয়া–ইতালি সাগরপথে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারান এই যুবক।
স্থানীয়রা জানান, ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকায় অগ্নিকাণ্ড ও ডুবির ঘটনায় আরমানসহ বহু যাত্রী মারা গেছেন। দালাল জসিম উদ্দিন লিবিয়া থেকে ফোনে বিষয়টি আরমানের পরিবারকে জানান।
আরমান শিবপুর ইউনিয়নের রেনু মিয়ার ছেলে। তিন সন্তানের জনক তিনি—সাত ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়।
জানা যায়, শিবপুর ফাঁড়ি রঘুনাথপুর গ্রামের দালাল জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে লোক বিদেশে পাঠিয়ে আসছেন। লিবিয়ায় অবস্থানরত জসিম ফোনে আরমানকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেন। এজন্য ৫ লাখ টাকা নগদ এবং ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৭ শতাংশ জমি লিখে নেন তিনি। প্রতিশ্রুতি ছিল, ঝুঁকিমুক্তভাবে জাহাজে করে ইতালি পৌঁছে দেবেন।
আরমানের পরিবার জানায়, ৭ নভেম্বর আরমান দেশ ছাড়েন। ১৬ নভেম্বর সকালে জসিম প্রথমে বলেন, আরমান ইতালি পৌঁছে গেছে। পরে আবার বলেন, “ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।” এরপর থেকে আরমানের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আরমানের ছোট ভাই নয়ন মিয়া বলেন,
“এখনও বিশ্বাস হয় না ভাই মারা গেছে। দালালচক্র হয়তো ভাইকে হত্যা করেছে। জসিম নানা কথা বলে আমাদের বিভ্রান্ত করছিল।”
জসিম লিবিয়ায় থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার মা হামিদা বেগম জানান,
“আমার ছেলে জানিয়েছে, আরমান মারা গেছে। কিন্তু কীভাবে মারা গেছে—জানি না।”




