বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

লিবিয়া–ইতালি সাগরপথে ডুবে ভৈরবের আরমানসহ কয়েকজন নিহত

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
লিবিয়া–ইতালি সাগরপথে ডুবে ভৈরবের আরমানসহ কয়েকজন নিহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের আলুকান্দা গ্রামের আরমান (৩৫) ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৮ বছর মালয়েশিয়ায় থাকার পর হঠাৎ ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় দালাল জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ১২ দিন আগে নিজের জমি লিখে দিয়ে রওনা দেন ইতালির উদ্দেশে। শেষ পর্যন্ত লিবিয়া–ইতালি সাগরপথে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারান এই যুবক।

স্থানীয়রা জানান, ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকায় অগ্নিকাণ্ড ও ডুবির ঘটনায় আরমানসহ বহু যাত্রী মারা গেছেন। দালাল জসিম উদ্দিন লিবিয়া থেকে ফোনে বিষয়টি আরমানের পরিবারকে জানান।

আরমান শিবপুর ইউনিয়নের রেনু মিয়ার ছেলে। তিন সন্তানের জনক তিনি—সাত ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়।

জানা যায়, শিবপুর ফাঁড়ি রঘুনাথপুর গ্রামের দালাল জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে লোক বিদেশে পাঠিয়ে আসছেন। লিবিয়ায় অবস্থানরত জসিম ফোনে আরমানকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেন। এজন্য ৫ লাখ টাকা নগদ এবং ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৭ শতাংশ জমি লিখে নেন তিনি। প্রতিশ্রুতি ছিল, ঝুঁকিমুক্তভাবে জাহাজে করে ইতালি পৌঁছে দেবেন।

আরমানের পরিবার জানায়, ৭ নভেম্বর আরমান দেশ ছাড়েন। ১৬ নভেম্বর সকালে জসিম প্রথমে বলেন, আরমান ইতালি পৌঁছে গেছে। পরে আবার বলেন, “ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।” এরপর থেকে আরমানের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আরমানের ছোট ভাই নয়ন মিয়া বলেন,
“এখনও বিশ্বাস হয় না ভাই মারা গেছে। দালালচক্র হয়তো ভাইকে হত্যা করেছে। জসিম নানা কথা বলে আমাদের বিভ্রান্ত করছিল।”

জসিম লিবিয়ায় থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার মা হামিদা বেগম জানান,
“আমার ছেলে জানিয়েছে, আরমান মারা গেছে। কিন্তু কীভাবে মারা গেছে—জানি না।”

কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বুধবার(২২ জুলাই) কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাছরিফুল হাছিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। চিকিৎসার অভাবে যাতে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা সহায়তা ও বিশেষ অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। সেই কষ্ট লাঘব করতেই সরকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।

বক্তারা বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সুফল ইতোমধ্যে লাখো মানুষ পাচ্ছেন। চিকিৎসা সহায়তার এ বিশেষ অনুদান কর্মসূচিও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আটজন অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। উপকারভোগীরা সরকারের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উপকারভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিকলীতে নিখোঁজের একদিন পর ধনু নদী থেকে মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
নিকলীতে নিখোঁজের একদিন পর ধনু নদী থেকে মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

Exif_JPEG_420

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান।

নিহত তাওহীদ হোসেন উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব টেংগুরিয়া গ্রামের গুলজার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাওহীদ নিখোঁজ ছিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। আশপাশের গ্রাম, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতভর উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটান পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সিংপুর বাজারসংলগ্ন ধনু নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে সেটি তাওহীদের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি পরিবার ও পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকার সাহায্যে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, “তাওহীদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।”

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

কিশোরগঞ্জে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি ও আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪।

র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানার বড় বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে কিশোরগঞ্জ সদর থানার মামলা নম্বর-১৮(৪)/২০১৪, জিআর নম্বর-১৩৪(২)/২০১৪-এর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি পল্টু মিয়া ওরফে সুমন (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার রাজকুন্তি গ্রামের মৃত শামছু মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারার মামলায় আদালত কর্তৃক তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। রায়ের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১৪ জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41