ভৈরবের মৌটুপী গ্রামে ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে দুই বংশের দীর্ঘ ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধে গত পাঁচ দশকে ১৮ জন নিহত, সহস্রাধিক মানুষ আহত এবং কয়েকশ বাড়িঘর ভাঙচুর–লুটপাট হয়েছে। উভয় পক্ষের নামে শতাধিক মামলাও চলমান।
দুই বংশের নেতৃত্বে ছিলেন সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সরকার মো. সাফায়েত উল্লাহ এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. তোফাজ্জল হক। গ্রামের মানুষজনের কাছে মৌটুপী দীর্ঘদিন ধরেই ‘দাঙ্গাবাজ গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত ছিল। পুলিশের আসামি ধরতে গেলে পুলিশকে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।
৫৫ বছরের এই সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, যিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী। তাঁর নির্দেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম দুই পক্ষকে আলোচনায় বসান।
গত সপ্তাহে মৌটুপী গ্রামে দুই বংশের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়—এখন থেকে তারা আর কখনো সংঘর্ষে জড়াবে না। ছোট-বড় সব ধরনের বিরোধ মিলেমিশে মীমাংসা করবেন। বর্তমানে চলমান মামলাগুলোও সংসদ নির্বাচনের পর আলোচনা করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ভিপি সাইফুল হকের বাড়িতে দুই পক্ষের যৌথ আহারের আয়োজন করা হয়। খাবারের পর চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ ও তোফাজ্জল হক কোলাকুলি করেন এবং পরস্পরকে মালা পরিয়ে দেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই বংশের নেতারাই ঘোষণা দেন—এখন থেকে তারা একসঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে গ্রামে বসবাস করবেন।
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সরকার মো. সাফায়েত উল্লাহ বলেন,
“আমরা আর ভবিষ্যতে কোনো সংঘর্ষে জড়াব না।”
সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক বলেন, “এখন থেকে ভাই ভাই হয়ে গ্রামে থাকবো।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নেতা শরীফুল আলমের নির্দেশে ৫৫ বছরের শত্রুতার ইতি টানতে পেরেছি।”
সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জানান, “একটি কুচক্রী মহল দুই বংশকে বিবাদে জড়িয়ে ফায়দা লুটত। এখন গ্রামে শান্তি ফিরেছে।”
ভিপি সাইফুল হক বলেন, “এটি আমার গ্রামের মানুষ। বহু বছরের চেষ্টা শেষে আমরা সফল হয়েছি।”
এভাবেই বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় অবশেষে মৌটুপী গ্রামে পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান হলো।




