শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

ভৈরবের মৌটুপী গ্রামে ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবের মৌটুপী গ্রামে ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে দুই বংশের দীর্ঘ ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধে গত পাঁচ দশকে ১৮ জন নিহত, সহস্রাধিক মানুষ আহত এবং কয়েকশ বাড়িঘর ভাঙচুর–লুটপাট হয়েছে। উভয় পক্ষের নামে শতাধিক মামলাও চলমান।

দুই বংশের নেতৃত্বে ছিলেন সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সরকার মো. সাফায়েত উল্লাহ এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. তোফাজ্জল হক। গ্রামের মানুষজনের কাছে মৌটুপী দীর্ঘদিন ধরেই ‘দাঙ্গাবাজ গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত ছিল। পুলিশের আসামি ধরতে গেলে পুলিশকে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

৫৫ বছরের এই সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, যিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী। তাঁর নির্দেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম দুই পক্ষকে আলোচনায় বসান।

গত সপ্তাহে মৌটুপী গ্রামে দুই বংশের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়—এখন থেকে তারা আর কখনো সংঘর্ষে জড়াবে না। ছোট-বড় সব ধরনের বিরোধ মিলেমিশে মীমাংসা করবেন। বর্তমানে চলমান মামলাগুলোও সংসদ নির্বাচনের পর আলোচনা করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ভিপি সাইফুল হকের বাড়িতে দুই পক্ষের যৌথ আহারের আয়োজন করা হয়। খাবারের পর চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ ও তোফাজ্জল হক কোলাকুলি করেন এবং পরস্পরকে মালা পরিয়ে দেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই বংশের নেতারাই ঘোষণা দেন—এখন থেকে তারা একসঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে গ্রামে বসবাস করবেন।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সরকার মো. সাফায়েত উল্লাহ বলেন,
“আমরা আর ভবিষ্যতে কোনো সংঘর্ষে জড়াব না।”

সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক বলেন, “এখন থেকে ভাই ভাই হয়ে গ্রামে থাকবো।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নেতা শরীফুল আলমের নির্দেশে ৫৫ বছরের শত্রুতার ইতি টানতে পেরেছি।”

সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জানান, “একটি কুচক্রী মহল দুই বংশকে বিবাদে জড়িয়ে ফায়দা লুটত। এখন গ্রামে শান্তি ফিরেছে।”

ভিপি সাইফুল হক বলেন, “এটি আমার গ্রামের মানুষ। বহু বছরের চেষ্টা শেষে আমরা সফল হয়েছি।”

এভাবেই বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় অবশেষে মৌটুপী গ্রামে পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান হলো।

পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত চালু হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় নদীর ওপর স্থাপিত দুটি ফেরি।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার সূতারপাড়া ইউনিয়নের ধনু নদীতে বালিখলা ফেরি এবং মিঠামইন উপজেলা সদরসংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে শান্তিপুর ফেরির চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ফেরি চলাচল উদ্বোধনের সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ইজারাদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ফেরিগুলো মূলত শুকনো মৌসুমে চলাচল করে। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস হাওরের সাবমার্জিবল সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পানি নেমে সড়ক ভেসে উঠতেই ফেরি আবার চলতে শুরু করে।

এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় করিমগঞ্জের বালিখলা হয়ে হাওরের তিন উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের উদ্যোগে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইকপাড়া হোসাইনিয়া বাবুলউলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে দুই শতাধিক নারী–পুরুষ মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্মরোগ, গাইনি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে। যারা সময়মতো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তারা আজ সুবিধা পেয়েছেন।’
চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা বেগম বলেন, ‘হৃদরোগের পরীক্ষা করতে আগে দূরে যেতে হতো। আজ ক্যাম্পে এসে চেকআপ করিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।’

হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন চর্মরোগে ভুগছিলেন। ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময় নিয়ে পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হত। আজ একদম বিনা খরচে সেবা পেয়েছি।’

ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন সুমন, তাড়াইল উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, দিগদাইড় ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল, ধলা ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাড়াইল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম।

‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী বলেছেন, “দেশজুড়ে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ এবং হোসেনপুরও এর বাইরে নয়। এমপি থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার দেখা যায়। এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাদী এ মন্তব্য করেন।

সভায় জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মোকাররম হুসাইনের সভাপতিত্ব এবং সহসভাপতি মুহাম্মদ মুযাক্কির হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।