শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রেলওয়ের জমি বেহাতের অভিযোগ; পুনরুদ্ধার-সংস্কারের আশ্বাস জেলা পরিষদ প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রেলওয়ের জমি বেহাতের অভিযোগ; পুনরুদ্ধার-সংস্কারের আশ্বাস জেলা পরিষদ প্রশাসকের

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সরকারি জমিকে কৃষি জমি হিসেবে দেখিয়ে অবৈধভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই জমি কখনোই কৃষি জমির শ্রেণিভুক্ত ছিল না; বরং এটি রেলওয়ের সরকারি সম্পত্তি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিশোরগঞ্জ সফরকালে নবনির্মিত রেলওয়ে স্টেশন ভবনের উদ্বোধন করেন। তবে বর্তমানে স্টেশন চত্বরের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ফলকসহ পুরো স্টেশন এলাকা চরম অবহেলায় পড়ে আছে। গেটসংলগ্ন একসময়ের দৃষ্টিনন্দন বাগান এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তা, ফুটপাত ও রেলওয়ের বাগানের মধ্যে কোনো ডিভাইডার বা সীমানা প্রাচীর না থাকায় এবং নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে সর্বত্র ঝোপঝাড় গজিয়ে উঠেছে, যা স্থানটির সৌন্দর্য নষ্ট করে বেমানান পরিবেশ তৈরি করেছে।

এছাড়া, রাতের অন্ধকার ও নীরবতার সুযোগে এলাকাটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানা এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্টেশন মাস্টার মোঃ খলিলুর রহমান জানান, স্টেশন এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে জেলা পরিষদ, রেড ক্রিসেন্ট ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের সামনের অবহেলিত চত্বরটি পরিষ্কার করে পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত সরকারের আমলে কীভাবে সরকারি জমিকে কৃষি জমি দেখিয়ে লিজ দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ বেহাতের বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”

স্টেশনের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানান-  স্টেশন চত্বরে স্থায়ী বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ; ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন; প্ল্যাটফর্মে আধুনিক বসার বেঞ্চ স্থাপন; অবকাঠামোগত সার্বিক উন্নয়ন।

তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন আমাদের জেলার প্রবেশদ্বার। এর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি স্টেশন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

এদিকে রেলওয়ের জমি বেহাত ও পরিবেশ বিনষ্টের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। একই বিষয়ে রেলওয়ে মন্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ তা স্বাগত জানিয়েছে।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।