সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হাওড়ে ভুট্টার আবাদে উচ্ছ্বাস, ধানের চেয়ে কৃষকের আগ্রহ বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওড়ে ভুট্টার আবাদে উচ্ছ্বাস, ধানের চেয়ে কৃষকের আগ্রহ বেশি

হাওড় মানেই শুকনো মৌসুমে ধান চাষের দৃশ্য। যতদূর চোখ যায়, সবুজ ধানের ক্ষেত দেখা যায়। কিন্তু দিনে দিনে সেই চিরচেনা দৃশ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। হাওড়পাড়ের কৃষকরা আগের মতো ধান চাষে আগ্রহী নন; তাদের একটি বড় অংশ ঝুঁকছেন অন্যান্য উৎপাদনমুখী ফসল চাষে।

বিশেষ করে চলতি বছর হাওড় অঞ্চলে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ। কৃষকদের একটি বড় অংশ এখন ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর লাভজনক হওয়ায় এ বছর তারা আরও বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। ধান চাষে প্রতিবছরই আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন হাওড়ের কৃষকরা। মহাজনের দেনা পরিশোধের চাপও থাকে, ফলে তারা দিশেহারা হন। এই অবস্থায় কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় কিশোরগঞ্জের হাওড়ে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষকরা জানান, বোরো ধানের আবাদে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক, কিন্তু লাভ খুব কম। বোরো ধানের জন্য প্রতি একরে খরচ হয় ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি ফলন হয় ৬৫ থেকে ৭৫ মণ, যা বিক্রি করলে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। এতে লাভের পরিমাণ কম। বিপরীতভাবে, ভুট্টা চাষে খরচ কম, কম পরিশ্রম লাগে, ধানের তুলনায় কম সময়ে ফসল গোলায় যায় এবং এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভুট্টা চাষ করলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। হাওড়ের পতিত জমি ও বোরো আবাদের অনেক জমিতেই এখন ভুট্টা চাষ হচ্ছে। ভুট্টার পাতা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং ফসল সংগ্রহের পর বাকি গাছ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। হাওড়াঞ্চলে জ্বালানির সমস্যা সমাধানে ভুট্টা চাষ সহায়ক।

হাওড় অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের ফলে কৃষকরা বাজারজাতকরণে সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে কৃষকের জীবন ও চাষাবাদের ধরন বদলে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ‌্য অনুযায়ী, গত বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ১২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর প্রায় ১১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যদি ফলন ঠিক থাকে, তাহলে এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে।

কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান জানান, হাওড়বেষ্টিত নিকলী, মিঠামইন, বাজিতপুর ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টার আবাদ আগের চেয়ে বেশি হয়েছে। চাহিদা থাকার কারণে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তারা কৃষকদের নিয়মিত ভুট্টা চাষে উৎসাহিত করছেন।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। হাওড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকি নেই, উৎপাদন খরচ কম এবং দামও ভালো পাওয়া যায়।

হোসেনপুরে জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ দাওয়াতী গণসংযোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ দাওয়াতী গণসংযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৩০ দিনব্যাপী ‘দাওয়াতী দশক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষ গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আমিনুল হকের আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক জৈনউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডিএম মুহিবুল্লাহ, হোসেনপুর পৌরসভা সভাপতি রহমত আলী মাস্টার, যুব বিভাগের সভাপতি মো. আরফান হোসেন বাবরসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জৈনউদ্দিন বলেন, একটি সৎ, চরিত্রবান ও মানবিক সমাজ গঠনে দাওয়াতী কাজের বিকল্প নেই। সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে সত্য ও সুন্দর পথে আসার আহ্বান জানানোর লক্ষ্যেই এ দাওয়াতী দশকের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশ শেষে হোসেনপুর উপজেলার কুড়িঘাট মোড় থেকে হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এ সময় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ইসলামী জীবনদর্শনের পরিচিতিমূলক লিফলেট ও বই বিতরণ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ দাওয়াতী দশকের মাধ্যমে হোসেনপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংগঠনের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও গণসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন রেনু মিয়া নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রেনু মিয়া ওই এলাকার ইল্লাত মিয়ার ছেলে। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় করা একটি মামলার আসামি রেনু মিয়া। মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। তবে এ সময় কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় রেনু মিয়া কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউপি নির্বাচন হবে আগামী ১২ নভেম্বর।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় তিনটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, এ দুই জেলায় উপজেলার সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া যেসব জেলায় ১০টি বা তার বেশি উপজেলা রয়েছে, সেসব জেলার দুটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে ভোট হবে। এসব মিলিয়ে প্রথম ধাপে মোট ৮০টি উপজেলা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আদালতের রায়ের কারণে দুটি উপজেলায় নির্বাচন করতে হবে। আর বাকি উপজেলাগুলো বেশি সংখ্যক উপজেলা থাকা জেলাগুলোতে আনুপাতিক হারে সমন্বয় করে প্রথম ধাপে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপকে অপেক্ষাকৃত হালকা রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, দ্বিতীয় ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে।