শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

হাওড়ে ভুট্টার আবাদে উচ্ছ্বাস, ধানের চেয়ে কৃষকের আগ্রহ বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওড়ে ভুট্টার আবাদে উচ্ছ্বাস, ধানের চেয়ে কৃষকের আগ্রহ বেশি

হাওড় মানেই শুকনো মৌসুমে ধান চাষের দৃশ্য। যতদূর চোখ যায়, সবুজ ধানের ক্ষেত দেখা যায়। কিন্তু দিনে দিনে সেই চিরচেনা দৃশ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। হাওড়পাড়ের কৃষকরা আগের মতো ধান চাষে আগ্রহী নন; তাদের একটি বড় অংশ ঝুঁকছেন অন্যান্য উৎপাদনমুখী ফসল চাষে।

বিশেষ করে চলতি বছর হাওড় অঞ্চলে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ। কৃষকদের একটি বড় অংশ এখন ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর লাভজনক হওয়ায় এ বছর তারা আরও বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। ধান চাষে প্রতিবছরই আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন হাওড়ের কৃষকরা। মহাজনের দেনা পরিশোধের চাপও থাকে, ফলে তারা দিশেহারা হন। এই অবস্থায় কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় কিশোরগঞ্জের হাওড়ে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষকরা জানান, বোরো ধানের আবাদে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক, কিন্তু লাভ খুব কম। বোরো ধানের জন্য প্রতি একরে খরচ হয় ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি ফলন হয় ৬৫ থেকে ৭৫ মণ, যা বিক্রি করলে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। এতে লাভের পরিমাণ কম। বিপরীতভাবে, ভুট্টা চাষে খরচ কম, কম পরিশ্রম লাগে, ধানের তুলনায় কম সময়ে ফসল গোলায় যায় এবং এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভুট্টা চাষ করলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। হাওড়ের পতিত জমি ও বোরো আবাদের অনেক জমিতেই এখন ভুট্টা চাষ হচ্ছে। ভুট্টার পাতা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং ফসল সংগ্রহের পর বাকি গাছ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। হাওড়াঞ্চলে জ্বালানির সমস্যা সমাধানে ভুট্টা চাষ সহায়ক।

হাওড় অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের ফলে কৃষকরা বাজারজাতকরণে সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে কৃষকের জীবন ও চাষাবাদের ধরন বদলে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ‌্য অনুযায়ী, গত বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ১২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর প্রায় ১১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যদি ফলন ঠিক থাকে, তাহলে এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে।

কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান জানান, হাওড়বেষ্টিত নিকলী, মিঠামইন, বাজিতপুর ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টার আবাদ আগের চেয়ে বেশি হয়েছে। চাহিদা থাকার কারণে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তারা কৃষকদের নিয়মিত ভুট্টা চাষে উৎসাহিত করছেন।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। হাওড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকি নেই, উৎপাদন খরচ কম এবং দামও ভালো পাওয়া যায়।

হোসেনপুরে আগাছানাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে আগাছানাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কৃষিজমিতে আগাছা দমনে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক (আগাছানাশক) ব্যবহারের ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, কৃষকদের সচেতনতার ঘাটতি, শ্রমিক সংকট এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর প্রভাবে মিঠাপানির মাছ, ব্যাঙ, শামুকসহ বিভিন্ন উপকারী প্রাণী ও পোকামাকড়ের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বোরো ধান কাটার পর প্রায় তিন মাস জমি পতিত থাকায় সেখানে কোমরসমান আগাছা জন্মেছে। এসব আগাছা ছোট ট্রাক্টর দিয়ে পরিষ্কার করা কঠিন হওয়ায় অনেক কৃষক সহজ সমাধান হিসেবে আগাছানাশক প্রয়োগ করছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, আগাছা দ্রুত দমন হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ। অতিরিক্ত রাসায়নিকের কারণে কৃষিজমির মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিষাক্ত উপাদান পুকুর, খাল, বিল ও নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জলজ প্রাণী এবং কৃষির জন্য উপকারী পোকামাকড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ভরুয়া গ্রামের কৃষক মো. সাইদুর রহমান, জামাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ দুলাল, পুমদী ইউনিয়নের নারায়ণ ডহর গ্রামের আব্দুর রাশিদ, নজরুল ইসলাম (৫৫) ও মো. নজরুল ইসলাম (৪০) জানান, কৃষি শ্রমিকের সংকট এবং উচ্চ মজুরির কারণে আগাছা পরিষ্কার করতে প্রতি একরে যেখানে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হতো, সেখানে আগাছানাশক ব্যবহার করে মাত্র দুই হাজার টাকার মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা যায়। এ কারণে অধিকাংশ কৃষক রাসায়নিক ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।

তারা আরও বলেন, একসময় এসব জমিতে বছরে তিনটি ফসল আবাদ করা হলেও বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন না। ফলে খরচ কমাতে সহজ পদ্ধতিকেই বেছে নিচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল কবির বলেন, আগাছা দমনে ব্যবহৃত রাসায়নিক বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিষাক্ত ঘাস খেয়ে গরু-ছাগলের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে আগাছানাশক ব্যবহার চলতে থাকলে খাল-বিলের মাছের মতো নদীর মাছও ভবিষ্যতে মারাত্মক সংকটে পড়বে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, নির্দিষ্ট কিছু আগাছা দমনে অনুমোদিত মাত্রায় ২,৪-ডি অ্যামাইন (2,4-D Amine) ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে কোনো আগাছানাশক বা কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি কৃষকদের জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। যদিও এর কার্যকারিতা তুলনামূলক ধীর হওয়ায় অনেক কৃষক এতে আগ্রহী নন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, অতীতে কৃষকরা আগাছা চাষের মাধ্যমে মাটিতে মিশিয়ে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে শ্রম বাঁচাতে অতিরিক্ত রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। কৃষি বিভাগ সবসময় রাসায়নিকের অপব্যবহার নিরুৎসাহিত করলেও এ প্রবণতা কমছে না। এ সমস্যা সমাধানে কৃষক, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

পরিবেশবিদদের মতে, কৃষি উৎপাদন বজায় রাখার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আগাছা দমনে সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, পাকুন্দিয়ায় মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, পাকুন্দিয়ায় মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি মাদ্রাসা ও চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মোট নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার শিমুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন ‘জুনায়েত ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

পরীক্ষা উপলক্ষে সকাল থেকেই শিমুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে পুলিশ, আনসার বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১৯টি পরীক্ষাকক্ষে ৬০ জন কক্ষ পরিদর্শক, ১০ জন হল সুপার এবং চারজন সহকারী হল সুপার দায়িত্ব পালন করেন।

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক চিত্ত রঞ্জন বর্মন ও মো. সাইফুল্লাহ, পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফসার উদ্দিন আহমদ, কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন তরুণ, পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ছোটনসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।

এ সময় পাকুন্দিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দিন, সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

জুনায়েত ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনম তানভীর হায়দার ভূঁইয়া বলেন, পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ধারাবাহিকতায় এবার শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. জুনায়েত ভূঁইয়া মোহন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি এবং মেধার বিকাশ ঘটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম পুরো পাকুন্দিয়া উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, এ ধরনের মেধা অন্বেষণ বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আরও উৎসাহিত করবে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্রলারযোগে মিঠামইনে শোকসভায় ভিপি সোহেল, বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
ট্রলারযোগে মিঠামইনে শোকসভায় ভিপি সোহেল, বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মরহুম মো. জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে মিঠামইনে পৌঁছেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ সদর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি শোভাযাত্রা ও গাড়িবহরসহ করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা ঘাটে পৌঁছান তিনি। পরে সেখান থেকে ট্রলারযোগে নদীপথ অতিক্রম করে মিঠামইনে আয়োজিত নাগরিক শোকসভাস্থলে উপস্থিত হন ভিপি সোহেল এবং তার সঙ্গে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার নিজ বাগানবাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন মো. জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে হাদিস মিয়া নামে বিএনপির আরেক কর্মী গুরুতর আহত হন।

মরহুম জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় ভিপি সোহেলের সাথে উপস্থিত হোন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন মাসুদ সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিল্কী শ্যামল, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম ও জালাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ উদ্দিন, গোলাপ মিয়া, আব্দুল কাদির, নুরুল হক শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বল এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শোয়েব সাদিকিন বাপ্পীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

শোকসভায় বক্তারা মরহুম জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41