বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হোসেনপুরে শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

সঞ্জিত চন্দ্র শীল  প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক
তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশাকে উপক্ষো করেই জমি তৈরি করে তাতে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরাঞ্চলের চাষিরা। কৃষকদের আশা, আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার তারা বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাবেন। গেল বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় হোসেনপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরি-বোরো ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। ফলে উপজেলার গ্রামাঞ্চল কিংবা পৌরসভার আবাদী ও অনাবাদী জমিতে ব্যাপকহারে বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
এদিকে শ্যালো মেশিন কিংবা পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি দিয়ে ধান রোপণের জন্য জমি উপযোগী করে তুলছেন বেশিরভাগ কৃষক। লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ পদ্ধতি এখন আর চোখে পড়ে না। অধিকাংশ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা ও বীজতলা থেকে ধানের চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। তবে সারা দেশে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান আবাদ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় চাষিরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মওসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার জিনারী, পুমদি, শাহেদল, গোবিন্দপুর, আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে দেখা যায় ইরি-বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে জিনারী ইউনিয়নের চর কাটিহারী, চর হাজিপুর সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর, চর বিশ্বনাথপুর গ্রামে পুরোদমে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবছর জমিতে তারা বিনা ৭ ও ৮, হাইব্রিড বিধান ৭, ২৮, ২৯, ৪৯, ৫২, বায়ার কোম্পানির ধানী গোল্ড, তেজ ও পেট্রোকেম কোম্পানির পাইওনিয়ার এগ্রো-১২ জাতের ধান রোপণ করছেন। অনেক কৃষক শ্রমিকের সাথে নিজেও বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত রয়েছেন। উপজেলার জামাইল গ্রামের কৃষক মোঃ নবী হোসেন সহ অনেকেই জানান, এবার বিঘাপ্রতি ২০ কেজি ডেপ, ১২ কেজি পটাস, ৫ কেজি জিপসাম এবং ৫ থেকে ৭ ভ্যান গোবর সার মিশিয়ে জমিতে পানি দিয়ে কাদা তৈরি করছেন তারা। পরে বীজতলা থেকে চারা এনে সেই জমিতে রোপণ করছেন। এরই মধ্যে উপজেলায় প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান,বোরো ধান রোপণের শুরু থেকে কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত সময় লাগে ৯০ দিন। কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বোরো চাষিদের খরচ হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। গেলো বোরো মৌসুমে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় এবারও দাম ভালো পাওয়ার আশায় আছেন চাষিরা।
উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরহাজিপুর গ্রামের আমন ধান চাষী নজরুল ইসলাম, চর বিশ্বনাথ গ্রামের রফিক মিয়া, সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর গ্রামের কামরুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ধানের দাম বাজার বেশি থাকায় বোরো রোপণ করছি অধিকাংশ জমিতে। আরও অনেক জমিতে রোপণ করা বাকি আছে। তারা আরও জানান, বাজারের ধানের দাম বেশি। তাই বোরো ধান চাষ বেশি আবাদ করবেন বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন  জানান, চলতি মৌসুমে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষে চরাঞ্চলের কৃষকরা বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তবে এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রোপণ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।