বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২১ ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২১ ১৪৩২

ব্যবসায়ীদের শাটডাউনে অচল শহর

হারিছ আহমেদ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ব্যবসায়ীদের শাটডাউনে অচল শহর

কিশোরগঞ্জ শহরের ফুটপাত কে দখল করবে—হকার নাকি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ, ব্যবসায়ীরা রাস্তায়, আর প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

শহরের প্রধান সড়কগুলো গত কয়েক বছর ধরে একটি অবৈধ দখল মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। ফুটপাত দখল, অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র স্টল আর প্রতিদিনের চাঁদাবাজির কারণে শহরের জনজীবন কার্যত পঙ্গু। অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকে যায় হকারদের স্থাপনায়; তবুও কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ফুটপাত দখলে ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফুটপাত দখলদাররা শুধু জায়গা দখল করছে না; তারা ব্যবসা, চলাচল, নিরাপত্তা—সবকিছুতে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

ব্যবসায়ী সমিতি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়েছে, ফুটপাত এখন জনতার নয়; হকার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। মার্কেট এলাকায় ক্রেতারা হাঁটতে পারে না, যানজট নিত্যদিনের। ঝগড়াঝাঁটি, ধাক্কাধাক্কি, শব্দদূষণ—এসব এখন শহরের স্বাভাবিক চিত্র হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষায়, এটি আর ফুটপাত দখল নয়—এটি প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্য সন্ত্রাস।

গতকাল রাতে ফুটপাত হকারদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দেন—কিশোরগঞ্জ মার্কেট আজ থেকে শাটডাউন। শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। স্লোগান ওঠে—‘কিশোরগঞ্জে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নেই’, ‘হকার সন্ত্রাস বন্ধ করো’, ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দাও’। পরে ব্যবসায়ী নেতারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

হকারদের মুখে আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠে এসেছে। তাদের দাবি, ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চাঁদা দিতে হয়। ৫ আগস্টের আগে এই টাকা দিতে হতো সুমন মাহমুদকে; এখন এই টাকার বড় অংশ যায় কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ঝুমনের কাছে।

পূর্বেও ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে বেড়ানোর অভিযোগে জাকারিয়া ও তার ভাই–ভাতিজাদের বিরুদ্ধে হারুয়া এলাকার লোকজন একাধিক মামলা করেছে। গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে। কিন্তু দলের নেতৃবৃন্দ কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি; বরং উল্টো জাকারিয়া গংদের রক্ষার জন্য থানায় তদবির করেছে বলেও অভিযোগ হারুয়া এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ঝুমন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার নামে এসব রটানো হচ্ছে। তার দাবি, তার সঙ্গে শতাধিক হকার রয়েছে, তিনি কোনো চাঁদাবাজি করেননি, কাউকে করতে দেনওনি। তার ভাষ্য—যারা তার নামে অভিযোগ দিয়েছে তারা প্রকৃত হকার নয়; হকারদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন আখড়া বাজারের পাপন, সুজন, ওয়ালিদ গংরা।

হকাররা বলেন, “আমরা টাকা দিই বলে ফুটপাতে ব্যবসা করি। নিজেদের ক্ষমতায় কেউ এখানে বসতে পারে না। প্রতিটি দোকানের জন্য জামানত দিতে হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্রতিদিন টাকা না দিলে নেতাদের লোকজন এসে মারধর করে। এখন আমরা বিপদে—নেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।”

সরকার পরিবর্তনের পর চাঁদা কম দিতে চাইলে জাকারিয়া ঝুমন ও তার লোকজন মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছে বলেও অভিযোগ হকারদের। মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। চাঁদা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে ‘গুন্ডাপাণ্ডা’ বাহিনী এসে স্টল উল্টে দেয়, মালপত্র ভাঙচুর করে, দোকান বন্ধ রাখার হুমকি দেয়। এই চক্র ফুটপাত ব্যবসায়ী ও দোকানদার উভয়ের কাছ থেকেই টাকা তোলে।

এক হকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ আমরা উচ্ছেদের মুখে পড়ে গেছি; কিন্তু যারা আমাদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা নিয়েছে, তারা এখন আমাদের নামও নিচ্ছে না।”

হকারদের দাবি, শুধু ফুটপাত নয়—গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠেও প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ওঠে জাকারিয়া ঝুমনের লোকজনের মাধ্যমে। তার নাম কেউ মুখে আনলেই মারধরের ভয় দেখানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হকার বলেন, “আগে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে রাজনৈতিক ছায়ায় চাঁদাবাজি করত, এখনো একই পদ্ধতিতে চলছে। দল পাল্টায়, নেতৃত্ব পাল্টায়—কিন্তু চাঁদাবাজি থামে না।”

ব্যবসায়ীদের দাবি—ফুটপাত দখলকারীদের অবিলম্বে উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট ধ্বংস, স্থায়ী নজরদারি টিম গঠন, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।

শহরের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রশাসন দেরি করলে কিশোরগঞ্জের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। স্মারকলিপিতে জমা দেওয়া অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, রাজনৈতিক প্রভাব—সবকিছুই বহুদিন ধরে চলে আসছে; কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর অভিযান হয়নি।

এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের এক দিনের অভিযানই যথেষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো—তারা কি সত্যিই চাইছে?”

কিশোরগঞ্জ শহর এখন দুই শক্তির দ্বন্দ্বে জর্জরিত—হকার দখলদার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বনাম সাধারণ ব্যবসায়ী জনতা।

কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কায়সার শহীদ বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকে, তা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজির দায় সংগঠন নেবে না।

প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে, এবং কিশোরগঞ্জ একটি স্থায়ী সংকটে জড়িয়ে পড়তে পারে—যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন হবে।

চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মতলবপুর গ্রামে সোমবার (২ মার্চ) ব্যবসায়ী খোকনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন, চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাজী নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. জুয়েল মিয়া। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চন্দ্রাবতী’-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি সোমবার (২ মার্চ) ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ ‘চন্দ্রাবতী’র সভাপতি মিশকাতুল আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আলম সাকির স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রে নতুন কমিটি অনুমোদিত হয়।

ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত তনয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চিন্ময় রায়। সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন হামীম আহমেদ, সানজিদা ঐশী, তাসনিয়া অর্ণা ও কানিজ ফাতেমা সেতু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আরমান ইমন, হৃদয় রায়, মেহরাব হোসেন মৃদুল, রিফাইয়াত সুলতানা জেমি, সাদিয়া আক্তার উর্মি ও আতাহারুল ইসলাম মাহী। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাজিদ ইউসুফ।

সংগঠন সূত্র জানায়, ‘চন্দ্রাবতী’ দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম, ইফতার মাহফিল, BBQ, শিক্ষা বৃত্তি, সেমিনার ও শিক্ষাসফর আয়োজনের মাধ্যমে সংযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে আসছে। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই গুরুদয়াল কলেজ ও আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

নবনির্বাচিত সভাপতি সাখাওয়াত তনয় বলেন, “দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি আমানত। সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই আমানত রক্ষায় সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশী। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করব। সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সক্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় রায় বলেন, “সংগঠনের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নতুন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা এবং কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করা হবে।”

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘চন্দ্রাবতী’ আগামী এক বছরের জন্য গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কুলিয়ারচর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহত শিশু আশরাফুল দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে খাওয়ানোর পর ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছু সময় পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে ঘরে এসে জানায়, দোলনায় তার ছোট ভাই নেই। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।

এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের কোলে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও দীর্ঘ ২৬ দিনেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

শিশুটির দাদি অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী রুপা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুপা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধ, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।