বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্যবসায়ীদের শাটডাউনে অচল শহর

হারিছ আহমেদ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ব্যবসায়ীদের শাটডাউনে অচল শহর

কিশোরগঞ্জ শহরের ফুটপাত কে দখল করবে—হকার নাকি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ, ব্যবসায়ীরা রাস্তায়, আর প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

শহরের প্রধান সড়কগুলো গত কয়েক বছর ধরে একটি অবৈধ দখল মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। ফুটপাত দখল, অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র স্টল আর প্রতিদিনের চাঁদাবাজির কারণে শহরের জনজীবন কার্যত পঙ্গু। অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকে যায় হকারদের স্থাপনায়; তবুও কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ফুটপাত দখলে ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফুটপাত দখলদাররা শুধু জায়গা দখল করছে না; তারা ব্যবসা, চলাচল, নিরাপত্তা—সবকিছুতে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

ব্যবসায়ী সমিতি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়েছে, ফুটপাত এখন জনতার নয়; হকার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। মার্কেট এলাকায় ক্রেতারা হাঁটতে পারে না, যানজট নিত্যদিনের। ঝগড়াঝাঁটি, ধাক্কাধাক্কি, শব্দদূষণ—এসব এখন শহরের স্বাভাবিক চিত্র হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষায়, এটি আর ফুটপাত দখল নয়—এটি প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্য সন্ত্রাস।

গতকাল রাতে ফুটপাত হকারদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দেন—কিশোরগঞ্জ মার্কেট আজ থেকে শাটডাউন। শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। স্লোগান ওঠে—‘কিশোরগঞ্জে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নেই’, ‘হকার সন্ত্রাস বন্ধ করো’, ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দাও’। পরে ব্যবসায়ী নেতারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

হকারদের মুখে আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠে এসেছে। তাদের দাবি, ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চাঁদা দিতে হয়। ৫ আগস্টের আগে এই টাকা দিতে হতো সুমন মাহমুদকে; এখন এই টাকার বড় অংশ যায় কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ঝুমনের কাছে।

পূর্বেও ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে বেড়ানোর অভিযোগে জাকারিয়া ও তার ভাই–ভাতিজাদের বিরুদ্ধে হারুয়া এলাকার লোকজন একাধিক মামলা করেছে। গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে। কিন্তু দলের নেতৃবৃন্দ কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি; বরং উল্টো জাকারিয়া গংদের রক্ষার জন্য থানায় তদবির করেছে বলেও অভিযোগ হারুয়া এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ঝুমন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার নামে এসব রটানো হচ্ছে। তার দাবি, তার সঙ্গে শতাধিক হকার রয়েছে, তিনি কোনো চাঁদাবাজি করেননি, কাউকে করতে দেনওনি। তার ভাষ্য—যারা তার নামে অভিযোগ দিয়েছে তারা প্রকৃত হকার নয়; হকারদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন আখড়া বাজারের পাপন, সুজন, ওয়ালিদ গংরা।

হকাররা বলেন, “আমরা টাকা দিই বলে ফুটপাতে ব্যবসা করি। নিজেদের ক্ষমতায় কেউ এখানে বসতে পারে না। প্রতিটি দোকানের জন্য জামানত দিতে হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্রতিদিন টাকা না দিলে নেতাদের লোকজন এসে মারধর করে। এখন আমরা বিপদে—নেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।”

সরকার পরিবর্তনের পর চাঁদা কম দিতে চাইলে জাকারিয়া ঝুমন ও তার লোকজন মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছে বলেও অভিযোগ হকারদের। মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। চাঁদা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে ‘গুন্ডাপাণ্ডা’ বাহিনী এসে স্টল উল্টে দেয়, মালপত্র ভাঙচুর করে, দোকান বন্ধ রাখার হুমকি দেয়। এই চক্র ফুটপাত ব্যবসায়ী ও দোকানদার উভয়ের কাছ থেকেই টাকা তোলে।

এক হকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ আমরা উচ্ছেদের মুখে পড়ে গেছি; কিন্তু যারা আমাদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা নিয়েছে, তারা এখন আমাদের নামও নিচ্ছে না।”

হকারদের দাবি, শুধু ফুটপাত নয়—গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠেও প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ওঠে জাকারিয়া ঝুমনের লোকজনের মাধ্যমে। তার নাম কেউ মুখে আনলেই মারধরের ভয় দেখানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হকার বলেন, “আগে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে রাজনৈতিক ছায়ায় চাঁদাবাজি করত, এখনো একই পদ্ধতিতে চলছে। দল পাল্টায়, নেতৃত্ব পাল্টায়—কিন্তু চাঁদাবাজি থামে না।”

ব্যবসায়ীদের দাবি—ফুটপাত দখলকারীদের অবিলম্বে উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট ধ্বংস, স্থায়ী নজরদারি টিম গঠন, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।

শহরের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রশাসন দেরি করলে কিশোরগঞ্জের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। স্মারকলিপিতে জমা দেওয়া অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, রাজনৈতিক প্রভাব—সবকিছুই বহুদিন ধরে চলে আসছে; কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর অভিযান হয়নি।

এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের এক দিনের অভিযানই যথেষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো—তারা কি সত্যিই চাইছে?”

কিশোরগঞ্জ শহর এখন দুই শক্তির দ্বন্দ্বে জর্জরিত—হকার দখলদার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বনাম সাধারণ ব্যবসায়ী জনতা।

কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কায়সার শহীদ বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকে, তা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজির দায় সংগঠন নেবে না।

প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে, এবং কিশোরগঞ্জ একটি স্থায়ী সংকটে জড়িয়ে পড়তে পারে—যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন হবে।

কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বুধবার(২২ জুলাই) কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাছরিফুল হাছিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। চিকিৎসার অভাবে যাতে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা সহায়তা ও বিশেষ অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। সেই কষ্ট লাঘব করতেই সরকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।

বক্তারা বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সুফল ইতোমধ্যে লাখো মানুষ পাচ্ছেন। চিকিৎসা সহায়তার এ বিশেষ অনুদান কর্মসূচিও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আটজন অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। উপকারভোগীরা সরকারের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উপকারভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে পাকুন্দিয়ার সেরা আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে পাকুন্দিয়ার সেরা আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের ঐক্য, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যুক্তি, তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা এবং দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণবন্ত বিতর্কে অংশ নেয়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসতেহাদ আহমেদ এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুন্নাহার।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া এবং উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তামান্না দিলশাত রিমি। মডারেটর ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শারফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক তরীকুল হাসান শাহীন। এ সময় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয় ও আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা, তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য এবং বিশ্লেষণধর্মী বিতর্কের মাধ্যমে আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। আয়োজকরা জানান, চ্যাম্পিয়ন দলটি পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রতিনিধিত্ব করবে।

পাকুন্দিয়ায় কৃষক হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় কৃষক হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আলোচিত কৃষক নুর ইসলাম (৭০) হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পোড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন— হাতিছ মিয়া (৪০) ও রশিদ মিয়া (৬৫)। তারা উভয়েই কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

র‍্যাব জানায়, নিহত নুর ইসলাম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায়ই নুর ইসলামের আবাদি জমির ফসল গবাদিপশু দিয়ে নষ্ট করতেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা হয়।

গত ২৩ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নুর ইসলাম নিজ ফসলি জমিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোবারক মিয়া বাদী হয়ে ২৪ জুন পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ১১৪, ৫০৬ ও ৩৪ ধারার সঙ্গে পরবর্তীতে ৩০২ ধারা সংযুক্ত করে রুজু করা হয়।

মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-১৪-এর সিপিসি-২ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে র‍্যাব-১-এর সিপিএসসি পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সহায়তায় গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পোড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41