সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

দশম গ্রেড চেয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দশম গ্রেড চেয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছেন কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। তাদের এই কর্মবিরতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। ডাক্তার দেখাতে পারলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, করতে পারছেন না, পাচ্ছেন না ওষুধ।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে এ কর্মসূচী পালন করে তারা। কর্মবিরতি শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরবর্তী কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কর্মবিরতিতে বক্তব্য রাখেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ তানভীর আহমেদ, ফার্মাসিস্ট মো: আনিসুর রহমান, ফার্মাসিস্ট সাহিদা পারভীন।

হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, সকাল ৮টায় প্রতিদিনের ন্যায় বহির্বিভাগে সেবা প্রদান থেকে শুরু পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রক্ত পরিসঞ্চালন শুরু হয়। এর এক ঘণ্টা পর কর্মবিরতি শুরু করেন টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এ সময় কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তাদের এই কর্মবিরতিতে জরুরি সেবা চালু থাকলেও অন্যান্য সেবায় ব্যাহত হওয়ায় সেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

এদিকে তাদের এই কর্মসূচি চলাকালে হাসপাতালে প্যাথলজি, ব্লাড ব্যাংক, রেডিওলোজী সহ বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে। অপরদিকে ফার্মেসী বিভাগে গিয়েও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এ সময় ওষুধ নিতে আসা রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন মাহবুব আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে চিকিৎসক দেখে ভাঙ্গা পায়ের এক্সরে করতে দিয়েছে, সাড়ে ১০ টার দিকে এসে দেখি এখানে কেউ নেই, শুনেছি তারা কর্মবিরতিতে গিয়েছে। সকাল থেকেই বসে আছি, কেউ কোনো কাজ করছে না।

এসময় বক্তারা বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, সচিবালয় ক্লিনিক, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, বঙ্গভবন মেডিকেল সেন্টার, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা বছরের পর বছর ধরে চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে মানবসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীরা যেমন— ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা এরই মধ্যে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হলেও, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা এখনো সেই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে স্বাস্থ্য খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পেশার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। নিজেদের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে বাধ্য হয়ে রোগীদের সেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অযৌক্তিক অজুহাতের কারণে বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে। এর ফলে তারা আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে সারা দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ফার্মাসিস্ট মো: আনিসুর রহমান বলেন, আমরা অনেকবার আন্দোলন করেছি, অনেকবার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আমাদের ফাইল অদৃশ্য কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকা পড়ে আছে। এরমধ্যে সরকারকে আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, আমাদের কথা রাখেননি। আমাদের মর্যাদা লড়াইয়ের জন্য সারাদেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা আজ সোচ্চার। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হলে আগামীকাল কমপ্লিট শাটডাউনে চলে যাব। এ সময়ে রোগীদের ভোগান্তি হলে সেই দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

মেডিকেল ল্যাব ইনচার্জ তানভীর আহমেদ বলেন, আমাদের দাবি যৌক্তিক সেটি স্বাস্থ্যন্ত্রণালয়ও জানে। আমরা দেখেছি অন্যান্য সেক্টরের ডিপ্লোমাধারীদের দশম গ্রেড দিলেও আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও বঞ্চিত। সরকার বার বার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন করেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা থাকলেও শুধুমাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছার অভাবে আটকে আছে। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

তানভীর আহমেদ আরও বলেন, আজ আমরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি করেছি। এর মধ্যে দাবি মেনে না নেয়া হলে আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে। আমরা কর্মবিরতি দিয়ে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তিতে ফেলতে চাইনা। সরকারের কাছে দাবি আমাদের ১০ গ্রেডে উন্নিত করা হোক। তা না হলে কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো আমরা।

উল্লেখ্য, এর আগে, গত ৩০ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এদিকে দাবি বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

 

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।

রোজায় ৪০০ পরিবারে ইফতার পৌঁছে দিলেন প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
রোজায় ৪০০ পরিবারে ইফতার পৌঁছে দিলেন প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেন

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বর্শিকুড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের উদ্যোগে ৪০০টি পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বর্শিকুড়া ও আদুমাস্টার বাজার এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে এসব ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় অসচ্ছল ও রোজাদার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত তোফাজ্জল হোসেন নিজ গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর তিনি এলাকার রোজাদার মানুষের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন।

তোফাজ্জল হোসেনের ভাই নজরুল ইসলাম জানান, প্রবাসে থাকলেও তোফাজ্জল সবসময় গ্রামের মানুষের খোঁজখবর রাখেন। রমজান মাসে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি প্রতি বছরই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকৃত পরিবারের সদস্যরা প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর মঙ্গল কামনা করেন।