সেতুর অভাবে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গভীর হাওরে অবস্থিত ছাতিরচর ইউনিয়ন আয়তনে জেলায় সবচেয়ে ছোট হলেও ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা। মাত্র দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে বসবাস করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পুরো ইউনিয়নটি সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ায় বর্ষা হোক বা শুষ্ক মৌসুম—যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। ফলে ছাতিরচরের মানুষকে সারা বছরই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন জানান, ছাতিরচর ইউনিয়নকে নিকলীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে প্রশস্ত ও খরস্রোতা ঘোড়াউত্রা নদী। ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওরের পানি এই নদী দিয়ে মেঘনায় গিয়ে পড়ে। ফলে সারাবছরই নদীতে তীব্র স্রোত থাকে। ইউনিয়নের মানুষ ফেরি নৌকা দিয়ে ঘোড়াউত্রা পাড়ি দিয়ে নিকলী সদর, বাজিতপুর, জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। এতে বছরের পর বছর ভোগান্তি বইতে হচ্ছে স্থানীয়দের। তিনি ঘোড়াউত্রার ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
ছাতিরচর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শওকত আকবর বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও মাছধরার ওপর নির্ভরশীল। জটিল রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নিতে হলেও নৌকাই একমাত্র ভরসা। ফেরির নির্ধারিত সময় মিস করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি রোগীর অবস্থাও আরও জটিল হয়ে পড়ে। প্রায়ই নৌদুর্ঘটনার শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তিনি বলেন, ছাতিরচর–নিকলী সড়কে একটি সেতু ও এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ করা হলে এলাকার উন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও দূর হবে।
স্থানীয়দের মতে, ঘোড়াউত্রা নদীর ওপর শুধু একটি সেতু নির্মাণ হলেও অন্তত ছয় মাস সড়কপথে যাতায়াত করতে পারবেন তারা। কারণ ঘোড়াউত্রা পার হলেই হাওর এলাকায় সাবমার্সিবল আরসিসি সড়ক রয়েছে, যা শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের উপযোগী।
ছাতিরচর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এই ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করেন। তাদের চরম দুর্ভোগ দূর করতে ঘোড়াউত্রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নিকলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতু বা এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশ সমীক্ষা ও বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদনের বিষয় থাকে। একটি নির্বাচিত সরকার হলে এসব প্রকল্প সংসদে উঠিয়ে পাশ করানো তুলনামূলক সহজ হতো। তিনি বলেন, এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন জটিল হলেও প্রয়োজনীয়।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। তবে ছাতিরচরবাসীর সমস্যার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলাপ করবেন বলে জানান।




