সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

সেতুর অভাবে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সেতুর অভাবে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গভীর হাওরে অবস্থিত ছাতিরচর ইউনিয়ন আয়তনে জেলায় সবচেয়ে ছোট হলেও ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা। মাত্র দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে বসবাস করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পুরো ইউনিয়নটি সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ায় বর্ষা হোক বা শুষ্ক মৌসুম—যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। ফলে ছাতিরচরের মানুষকে সারা বছরই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন জানান, ছাতিরচর ইউনিয়নকে নিকলীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে প্রশস্ত ও খরস্রোতা ঘোড়াউত্রা নদী। ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওরের পানি এই নদী দিয়ে মেঘনায় গিয়ে পড়ে। ফলে সারাবছরই নদীতে তীব্র স্রোত থাকে। ইউনিয়নের মানুষ ফেরি নৌকা দিয়ে ঘোড়াউত্রা পাড়ি দিয়ে নিকলী সদর, বাজিতপুর, জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। এতে বছরের পর বছর ভোগান্তি বইতে হচ্ছে স্থানীয়দের। তিনি ঘোড়াউত্রার ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

ছাতিরচর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শওকত আকবর বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও মাছধরার ওপর নির্ভরশীল। জটিল রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নিতে হলেও নৌকাই একমাত্র ভরসা। ফেরির নির্ধারিত সময় মিস করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি রোগীর অবস্থাও আরও জটিল হয়ে পড়ে। প্রায়ই নৌদুর্ঘটনার শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তিনি বলেন, ছাতিরচর–নিকলী সড়কে একটি সেতু ও এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ করা হলে এলাকার উন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও দূর হবে।

স্থানীয়দের মতে, ঘোড়াউত্রা নদীর ওপর শুধু একটি সেতু নির্মাণ হলেও অন্তত ছয় মাস সড়কপথে যাতায়াত করতে পারবেন তারা। কারণ ঘোড়াউত্রা পার হলেই হাওর এলাকায় সাবমার্সিবল আরসিসি সড়ক রয়েছে, যা শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের উপযোগী।

ছাতিরচর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এই ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করেন। তাদের চরম দুর্ভোগ দূর করতে ঘোড়াউত্রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিকলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতু বা এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশ সমীক্ষা ও বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদনের বিষয় থাকে। একটি নির্বাচিত সরকার হলে এসব প্রকল্প সংসদে উঠিয়ে পাশ করানো তুলনামূলক সহজ হতো। তিনি বলেন, এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন জটিল হলেও প্রয়োজনীয়।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। তবে ছাতিরচরবাসীর সমস্যার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলাপ করবেন বলে জানান।

হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (২ মার্চ) দুপুরে হোসেনপুর পৌর বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে পৌর বাজারের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কের ওপর স্থাপিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়।

দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে যানজট এড়াতে চারটি প্রবেশমুখ দিয়ে শহরের ভেতরে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে বলে জানায় প্রশাসন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসীন মাসনাদ বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো ও বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বিএনসিসি সদস্যরা প্রশংসনীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।”

পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছেন।

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।