শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

সেতুর অভাবে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সেতুর অভাবে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গভীর হাওরে অবস্থিত ছাতিরচর ইউনিয়ন আয়তনে জেলায় সবচেয়ে ছোট হলেও ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা। মাত্র দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে বসবাস করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পুরো ইউনিয়নটি সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ায় বর্ষা হোক বা শুষ্ক মৌসুম—যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। ফলে ছাতিরচরের মানুষকে সারা বছরই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন জানান, ছাতিরচর ইউনিয়নকে নিকলীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে প্রশস্ত ও খরস্রোতা ঘোড়াউত্রা নদী। ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওরের পানি এই নদী দিয়ে মেঘনায় গিয়ে পড়ে। ফলে সারাবছরই নদীতে তীব্র স্রোত থাকে। ইউনিয়নের মানুষ ফেরি নৌকা দিয়ে ঘোড়াউত্রা পাড়ি দিয়ে নিকলী সদর, বাজিতপুর, জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। এতে বছরের পর বছর ভোগান্তি বইতে হচ্ছে স্থানীয়দের। তিনি ঘোড়াউত্রার ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

ছাতিরচর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শওকত আকবর বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও মাছধরার ওপর নির্ভরশীল। জটিল রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নিতে হলেও নৌকাই একমাত্র ভরসা। ফেরির নির্ধারিত সময় মিস করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি রোগীর অবস্থাও আরও জটিল হয়ে পড়ে। প্রায়ই নৌদুর্ঘটনার শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তিনি বলেন, ছাতিরচর–নিকলী সড়কে একটি সেতু ও এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ করা হলে এলাকার উন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও দূর হবে।

স্থানীয়দের মতে, ঘোড়াউত্রা নদীর ওপর শুধু একটি সেতু নির্মাণ হলেও অন্তত ছয় মাস সড়কপথে যাতায়াত করতে পারবেন তারা। কারণ ঘোড়াউত্রা পার হলেই হাওর এলাকায় সাবমার্সিবল আরসিসি সড়ক রয়েছে, যা শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের উপযোগী।

ছাতিরচর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এই ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করেন। তাদের চরম দুর্ভোগ দূর করতে ঘোড়াউত্রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিকলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতু বা এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশ সমীক্ষা ও বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদনের বিষয় থাকে। একটি নির্বাচিত সরকার হলে এসব প্রকল্প সংসদে উঠিয়ে পাশ করানো তুলনামূলক সহজ হতো। তিনি বলেন, এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন জটিল হলেও প্রয়োজনীয়।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। তবে ছাতিরচরবাসীর সমস্যার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলাপ করবেন বলে জানান।

কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার বাজরা-তারাকান্দি বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান জাকির।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহ-সভাপতি: মো. সোহেল রানা (বাজরা-তারাকান্দি), মো. শাকিল মিয়া (দারিয়াকান্দি) ও মো. আজিজুর রহমান আপেল (ছয়সূতী)।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. সালাহ উদ্দীন (বাজরা)। প্রচার সম্পাদক: মো. মিলন মিয়া (মনোহরপুর), মো. আল-আমিন মিয়া (আগরপুর) ও মো. শরিফ মিয়া (চর কামালপুর)। সহকারী প্রচার সম্পাদক: মো. রতন মিয়া (তারাকান্দি) ও মো. আহসানুল হাবীব আশিক (পৈলানপুর)। সম্মানিত সদস্য: কুলিয়ারচর উপজেলার সকল বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকবে এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে কুলিয়ারচরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলাররা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হোসেনপুর থানা পুলিশ-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢেকিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মো. খাইরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে অপর অভিযানে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রাম থেকে মোছা. নাছিমা আক্তার নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রিটন মেম্বারের বোন বলে জানা গেছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলেন।

অভিযান পরিচালনা করেন হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন ও এসআই ঈদুল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৭/০৯। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে হোসেনপুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদ্যোগে ‘মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন জেলখানা রোড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, হাসপাতালের পরিচালক রিয়াদ আহমেদ তুষার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও হয়বতনগর ইউএল কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর সভাপতি এ কে নাছিম খান এবং কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

পরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালী তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার আফরিন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা অংশ নেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল বর্জ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মেডিকেল বর্জ সংগ্রহ, পরিবহন ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে শহরের পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।