মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ
আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ-০১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম-এর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তৃণমূল বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেন।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন জননেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল রোগে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি। এমতাবস্থায়, দল-মত নির্বিশেষে দেশ যখন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় ও সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল করছে, হঠাৎ দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আরও ৩৬ আসনে মনোনয়ন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এতে অধিকাংশ আসনে নেতাকর্মীদের মধ্যে খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়, এতে করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। মাজহারুল ইসলাম একজন কর্মীবিমুখ নেতা। তিনি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির জেলা সভাপতি শরিফুল আলমের মদদপুষ্ট হিসেবে সমালোচিত। অনেকের মতে, অনৈক্যের সূচনাকারী মাজহারুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ঐক্যের ভং দেখায়। তারপরও কোন যোগ্যতায়(?) তিনি মনোনয়ন পান এটি তৃণমূলের কাছে বড় প্রশ্ন।
তৃণমূলের প্রাণপ্রিয় নেতা, গত ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, রাজপথের নেতা, নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল), আজ শনিবার কিশোরগঞ্জে আগমনের পর নেতাকর্মীদের জোরাজুরিতে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। ওইখানে কিশোরগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। তারা কেন্দ্রের ঘোষিত মনোনয়ন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পরিবর্তনের জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং পরবর্তীতে আরও জোরালো আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সিনি. সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন মাসুদ সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা যুববদলের সিনি. সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম গোলাপ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমীন উজ্জ্বল। ইউনিয়ন সভাপতিদের মধ্যে ছিলেন রশিদাবাদের সিরাজুল ইসলাম, মহিনন্দের খোকন, যশোদলের জালালুদ্দীন, মারিয়ার আবুল কাশেম, বিন্নাটীর ইব্রাহীম মোল্লা, চৌদ্দশতর হাজী নজরুল ইসলাম, কর্শাকড়িয়াল আঃ সাত্তার, দানাপাটুলী রাসেল আহমেদ। সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মারিয়ার রফিকুল ইসলাম, লতিবাবাদের মুকুল, মাইজখাপনের শাহীন, বৌলাইয়ের সহ-সাধারণ সম্পাদক আঃ করীম। এছাড়াও কয়েক শতাধিক তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকলে সামনে কর্মীদের নিয়ে আর জোড়াল আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত বলে জানান দেন।




