বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ

আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ-০১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর)  বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম-এর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তৃণমূল বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেন।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন জননেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল রোগে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি। এমতাবস্থায়, দল-মত নির্বিশেষে দেশ যখন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় ও সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল করছে, হঠাৎ দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে  আরও ৩৬ আসনে মনোনয়ন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এতে অধিকাংশ আসনে নেতাকর্মীদের মধ্যে খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়, এতে করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। মাজহারুল ইসলাম একজন কর্মীবিমুখ নেতা। তিনি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির জেলা সভাপতি শরিফুল আলমের মদদপুষ্ট হিসেবে সমালোচিত। অনেকের মতে, অনৈক্যের সূচনাকারী মাজহারুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ঐক্যের ভং  দেখায়। তারপরও কোন যোগ্যতায়(?) তিনি মনোনয়ন পান এটি তৃণমূলের কাছে বড় প্রশ্ন।

তৃণমূলের প্রাণপ্রিয় নেতা, গত ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, রাজপথের নেতা, নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল), আজ শনিবার কিশোরগঞ্জে আগমনের পর নেতাকর্মীদের  জোরাজুরিতে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। ওইখানে কিশোরগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। তারা কেন্দ্রের  ঘোষিত মনোনয়ন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পরিবর্তনের জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং পরবর্তীতে আরও জোরালো আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সিনি. সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন মাসুদ সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা যুববদলের সিনি. সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম গোলাপ, যুগ্ন  সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমীন উজ্জ্বল। ইউনিয়ন সভাপতিদের মধ্যে ছিলেন রশিদাবাদের সিরাজুল ইসলাম, মহিনন্দের খোকন, যশোদলের জালালুদ্দীন, মারিয়ার আবুল কাশেম, বিন্নাটীর ইব্রাহীম মোল্লা, চৌদ্দশতর হাজী নজরুল ইসলাম, কর্শাকড়িয়াল আঃ সাত্তার, দানাপাটুলী রাসেল আহমেদ। সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মারিয়ার রফিকুল ইসলাম, লতিবাবাদের মুকুল, মাইজখাপনের শাহীন, বৌলাইয়ের সহ-সাধারণ সম্পাদক আঃ করীম। এছাড়াও কয়েক শতাধিক তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকলে সামনে কর্মীদের নিয়ে আর জোড়াল আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত বলে জানান দেন।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।