সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমের শুরুতেই তীব্র সার সংকট

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমের শুরুতেই তীব্র সার সংকট

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে বোরো মৌসুমের শুরুতেই তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক সার বরাদ্দ পাওয়ায় বোরো ও ভুট্টা আবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। প্রয়োজনীয় ইউরিয়া ও অন্যান্য সার না পেয়ে অনেক কৃষক চড়া দামে বাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিসিআইসি ও বিআরডিসি সংশ্লিষ্ট কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে বিএডিসির উন্নত মানের ধানবীজেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা হাওরের প্রধান ফসল বোরো উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

সময়মতো সার ও বীজ না পাওয়ায় জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এদিকে, সার সংকটের মধ্যেই মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোর ইউনিয়নে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সার পাচারের একটি ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে একটি ব্রিজের নিচে দীর্ঘক্ষণ একটি মালবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকচালক চাকার বেয়ারিং ভেঙে যাওয়ার কথা বললেও ট্রাকে কী মাল রয়েছে বা কোথায় নেওয়া হচ্ছে—এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। পরে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবতাব উদ্দিন ভূয়াকে ঘটনাস্থলে ডাকা হলে তাকে দেখে ট্রাকচালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যান।

স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকের ত্রিপল খুলে দেখা যায়, এতে ৮০ বস্তা সরকারি সার রয়েছে। কেওয়ারজোর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় ডিলার থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা নিয়মিত সার পান না। তাহলে এসব সার কোথায় যাচ্ছে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

সাবেক চেয়ারম্যান আবতাব উদ্দিন ভূয়া জানান, তিনি বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সারগুলো জব্দ করে একটি দোকানে সংরক্ষণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে ট্রাক, চালক ও সহযোগীদের জব্দ না করেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াবাইদুল ইসলাম খান অপু বলেন, মালিক শনাক্ত না হওয়ায় সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা সার বণ্টন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, জব্দকৃত সার ৪০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সরকারি মূল্যে বিতরণ করা হবে। তিনি ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এটি একটি সংঘবদ্ধ কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কাজ। তারা অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে সার নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (২ মার্চ) দুপুরে হোসেনপুর পৌর বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে পৌর বাজারের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কের ওপর স্থাপিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়।

দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে যানজট এড়াতে চারটি প্রবেশমুখ দিয়ে শহরের ভেতরে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে বলে জানায় প্রশাসন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসীন মাসনাদ বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো ও বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বিএনসিসি সদস্যরা প্রশংসনীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।”

পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছেন।

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।