ইকবালের মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-৫ এ কাফনের কাপড়ে মশাল মিছিল
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) সংসদীয় আসনে বিএনপির ত্যাগী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলায় টানা বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন—ইকবালের মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বাজিতপুর বাজারের রেজু মার্কেট এলাকায় বৃহৎ পরিসরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। একই সঙ্গে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে গত ২২ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে তাকে ওই আসনের নতুন মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ইকবাল সমর্থকরা রাজপথে নামেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন পুনর্বহাল না হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে দল থেকে গণপদত্যাগের মতো কঠোর কর্মসূচিতেও যেতে বাধ্য হবেন তারা।
বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাজিতপুর ও নিকলীর নেতাকর্মীদের পাশে বটগাছের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। মামলা-হামলা, নির্যাতন, মসজিদ-মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই তার অবদান রয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির অঙ্গসংগঠন তা মেনে নেবে না। এতে এই আসনে দল চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। আজও আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—ইকবাল ছাড়া অন্য কাউকে বাজিতপুর-নিকলীর বিএনপির নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।”
বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল বলেন, “ইকবাল ভাই মনোনয়ন না পেলে আমি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করব।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সরারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মহসিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লিটন ভুঁইয়া, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এরশাদ মিয়া, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মুর্তজা আলী জাহাঙ্গীর, নিকলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আজহারুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহরিয়ার শামীম, কৃষক দলের সদস্যসচিব ফাইজুল ইসলাম টিটু, শ্রমিক দলের সভাপতি আলী আহসান সবুজ, জাসাসের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ মিঠু, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শেখ রাফিদ রহমান প্রমুখ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে বাদ দিয়ে কোনো মনোনয়ন সিদ্ধান্ত বাজিতপুর-নিকলীর জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।







