পাকুন্দিয়ার মসজিদে পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, যুবক আটক
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় একটি মসজিদে রাখা অন্তত ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) গভীর রাতে পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া এলাকায় একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ পারভেজ নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয় বাজারের একটি মাইক সার্ভিসের কয়েকজন কর্মচারী ওয়াজ মাহফিলের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে মসজিদের বারান্দায় আগুন জ্বলতে দেখেন। তাদের চিৎকারে মসজিদের ইমামসহ এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে মসজিদের বারান্দায় মক্তবের শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা প্রায় ৩০টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মসজিদের ইমাম মাওলানা বায়েজিদ বলেন, তিনি মসজিদের পাশের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ পথচারীদের ডাকচিৎকারে ঘুম ভেঙে উঠে দেখতে পান, কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
বুধবার ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল হক, আহুতিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল এবং পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরুজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পারভেজ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।










