বাজিতপুরে শতবর্ষী সরকারি খাল ভরাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন; যুবদল নেতা অভিযুক্ত
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের মইতপুর মৌজায় শত বছরের পুরোনো একটি সরকারি পানি নিষ্কাশন খাল ভরাট ও দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসী। খাল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও ফসলহানির প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে মইতপুর খালের পাড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মইতপুর গ্রামে প্রায় ৪২ ফুট প্রশস্ত একটি সরকারি খাল ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, খাল ও খালপাট (কালভার্ট) বন্ধ করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা অভিযোগ করেন, কোথাও খাল দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বাঁধ দিয়ে পুকুর ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এতে ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষ ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বক্তারা জানান, বর্তমানে খালটির প্রস্থ সংকুচিত হয়ে মাত্র ৭–৮ ফুটে নেমে এসেছে; বাকি অংশ দখল হয়ে গেছে। নিকলী–বাজিতপুর সড়কের মইতপুর এলাকার একটি ব্রিজের এক পাশের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে পুকুর খনন ও চারদিকে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিশোরগঞ্জ জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক কোহিনুরের বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ তোলা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, ৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের সুযোগে খালের একটি অংশ দখল করে পুকুরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাহিদুর রহমান খান (অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর), বিএনপি নেতা সঞ্জু, রবিন আহমেদ, কাউসার খান, মো. হান্নান মিয়া, মো. সুমন মিয়া, মো. আশরাফসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন,
“এই খাল আমাদের এলাকার কৃষির প্রাণ। খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ফসল নয়, আমাদের জীবন-জীবিকাই হুমকির মুখে পড়েছে।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শতবর্ষী সরকারি খাল উদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসন ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদলের জেলা সহ-সভাপতি এমদাদুল হক কোহিনুর বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে আমরা ইজমালি হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। খাজনা না দেওয়ায় এটি সরকারি খাস খতিয়ানে রেকর্ড হয়েছে। আমি এখানে মাছ চাষ করছি এবং আলের ওপর মাটি দিয়েছি। সরকার যদি দাবি করে, আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি কোনো খাল দখল করিনি।”










