রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজিতপুরে শতবর্ষী সরকারি খাল ভরাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন; যুবদল নেতা অভিযুক্ত

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে শতবর্ষী সরকারি খাল ভরাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন; যুবদল নেতা অভিযুক্ত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের মইতপুর মৌজায় শত বছরের পুরোনো একটি সরকারি পানি নিষ্কাশন খাল ভরাট ও দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসী। খাল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও ফসলহানির প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে মইতপুর খালের পাড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মইতপুর গ্রামে প্রায় ৪২ ফুট প্রশস্ত একটি সরকারি খাল ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, খাল ও খালপাট (কালভার্ট) বন্ধ করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা অভিযোগ করেন, কোথাও খাল দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বাঁধ দিয়ে পুকুর ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এতে ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষ ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বক্তারা জানান, বর্তমানে খালটির প্রস্থ সংকুচিত হয়ে মাত্র ৭–৮ ফুটে নেমে এসেছে; বাকি অংশ দখল হয়ে গেছে। নিকলী–বাজিতপুর সড়কের মইতপুর এলাকার একটি ব্রিজের এক পাশের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে পুকুর খনন ও চারদিকে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মানববন্ধনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিশোরগঞ্জ জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক কোহিনুরের বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ তোলা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, ৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের সুযোগে খালের একটি অংশ দখল করে পুকুরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাহিদুর রহমান খান (অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর), বিএনপি নেতা সঞ্জু, রবিন আহমেদ, কাউসার খান, মো. হান্নান মিয়া, মো. সুমন মিয়া, মো. আশরাফসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন,
“এই খাল আমাদের এলাকার কৃষির প্রাণ। খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ফসল নয়, আমাদের জীবন-জীবিকাই হুমকির মুখে পড়েছে।”

মানববন্ধন থেকে বক্তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শতবর্ষী সরকারি খাল উদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসন ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে যুবদলের জেলা সহ-সভাপতি এমদাদুল হক কোহিনুর বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে আমরা ইজমালি হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। খাজনা না দেওয়ায় এটি সরকারি খাস খতিয়ানে রেকর্ড হয়েছে। আমি এখানে মাছ চাষ করছি এবং আলের ওপর মাটি দিয়েছি। সরকার যদি দাবি করে, আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি কোনো খাল দখল করিনি।”

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।