সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

বাজিতপুর পৌরশহরে বৈদ্যুতিক তার ও মিটার চুরির আতঙ্ক

বাজিতপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুর পৌরশহরে বৈদ্যুতিক তার ও মিটার চুরির আতঙ্ক

কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পৌরশহরে বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার, এসির তার ও বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত এক সপ্তাহে পৌরশহরের বাজার, আশপাশের আবাসিক এলাকা এবং মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে লক্ষাধিক টাকার তার ও ৮ থেকে ১০টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, উপজেলায় এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে প্রশিক্ষিত চোরচক্র বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাড়িঘর থেকে সার্ভিস তার, মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি করছে না। ফলে সাধারণ মানুষ ও আবাসিক গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে সরকারি অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি এবং মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে এসির তার বেশি চুরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের ধারণা, যারা এই চুরি করছে তারা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, নয়তো প্রশিক্ষিত কোনো চোরচক্র। কারণ বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার চুরি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণ চোরদের পক্ষে এটি সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ না করে অনেক সময় নিজেরাই নতুন সংযোগ নিয়ে থাকেন, যা আইনগত ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণির প্রশিক্ষিত চোর থ্রি-ফেজ মিটার চুরি করে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করছে। গত এক মাসে ২০ থেকে ২৫টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বাজিতপুর থানায় একাধিক মামলা হয়েছে।

বাজিতপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিল-কারখানা ও কৃষকের গভীর নলকূপে ব্যবহৃত থ্রি-ফেজ মিটার চুরি করছে একটি চক্র। চুরি করা মিটারের বোর্ডে তারা মোবাইল নম্বর লিখে রেখে যায় এবং ওই নম্বরে সাত হাজার থেকে দশ হাজার টাকা দিলে মিটার ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। চলতি মাসেই এ ধরনের ঘটনায় থানায় ১০টির বেশি মামলা হয়েছে। তবুও চোরচক্রের তৎপরতা থামেনি। প্রায় প্রতিরাতেই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে।

পৌরশহরের বাসিন্দা মামুন জানান, গত সপ্তাহে তার বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন থেকে সব তার কেটে নিয়ে যায় চোরেরা। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। পাগলারচর গ্রামের আবদুল করিমের মিটারও সম্প্রতি চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, নতুন মিটার বসালেও পরদিন সেটিও চুরি হয়ে যায়। তবে চোরদের দেওয়া নম্বরে টাকা দিলে চুরি হওয়া মিটার আশপাশ থেকেই উদ্ধার করা যায় এবং পরবর্তীতে আর চুরি হয় না।

বাজিতপুর বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী বলেন, “মিল-কারখানার থ্রি-ফেজ মিটার ও বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। প্রতিটি ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ বলেন, “চোরের রেখে যাওয়া মোবাইল নম্বরগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে গ্রাহকদেরও মিটার ও সংযোগ সংরক্ষণে আরও সতর্ক হতে হবে।”

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।