বাজিতপুর পৌরশহরে বৈদ্যুতিক তার ও মিটার চুরির আতঙ্ক
কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পৌরশহরে বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার, এসির তার ও বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত এক সপ্তাহে পৌরশহরের বাজার, আশপাশের আবাসিক এলাকা এবং মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে লক্ষাধিক টাকার তার ও ৮ থেকে ১০টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলায় এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে প্রশিক্ষিত চোরচক্র বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাড়িঘর থেকে সার্ভিস তার, মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি করছে না। ফলে সাধারণ মানুষ ও আবাসিক গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে সরকারি অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি এবং মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে এসির তার বেশি চুরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ধারণা, যারা এই চুরি করছে তারা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, নয়তো প্রশিক্ষিত কোনো চোরচক্র। কারণ বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার চুরি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণ চোরদের পক্ষে এটি সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ না করে অনেক সময় নিজেরাই নতুন সংযোগ নিয়ে থাকেন, যা আইনগত ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণির প্রশিক্ষিত চোর থ্রি-ফেজ মিটার চুরি করে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করছে। গত এক মাসে ২০ থেকে ২৫টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বাজিতপুর থানায় একাধিক মামলা হয়েছে।
বাজিতপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিল-কারখানা ও কৃষকের গভীর নলকূপে ব্যবহৃত থ্রি-ফেজ মিটার চুরি করছে একটি চক্র। চুরি করা মিটারের বোর্ডে তারা মোবাইল নম্বর লিখে রেখে যায় এবং ওই নম্বরে সাত হাজার থেকে দশ হাজার টাকা দিলে মিটার ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। চলতি মাসেই এ ধরনের ঘটনায় থানায় ১০টির বেশি মামলা হয়েছে। তবুও চোরচক্রের তৎপরতা থামেনি। প্রায় প্রতিরাতেই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে।
পৌরশহরের বাসিন্দা মামুন জানান, গত সপ্তাহে তার বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন থেকে সব তার কেটে নিয়ে যায় চোরেরা। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। পাগলারচর গ্রামের আবদুল করিমের মিটারও সম্প্রতি চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, নতুন মিটার বসালেও পরদিন সেটিও চুরি হয়ে যায়। তবে চোরদের দেওয়া নম্বরে টাকা দিলে চুরি হওয়া মিটার আশপাশ থেকেই উদ্ধার করা যায় এবং পরবর্তীতে আর চুরি হয় না।
বাজিতপুর বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী বলেন, “মিল-কারখানার থ্রি-ফেজ মিটার ও বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। প্রতিটি ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ বলেন, “চোরের রেখে যাওয়া মোবাইল নম্বরগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে গ্রাহকদেরও মিটার ও সংযোগ সংরক্ষণে আরও সতর্ক হতে হবে।”








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array