শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

আলেম সমাজকে যুদ্ধাপরাধীর ট্যাগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে: আক্তারুজ্জামান রঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আলেম সমাজকে যুদ্ধাপরাধীর ট্যাগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে: আক্তারুজ্জামান রঞ্জন

সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন বলেছেন, বাংলার মাটিতে আর কোনো আলেম সমাজকে যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আল-বদর কিংবা আল-শামস বলে আখ্যায়িত করা যাবে না।

ভৈরব এমপি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনের নির্বাচনী পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আক্তারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, “আমরা কোনো আলেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিনি। আমরা যুদ্ধ করেছি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। পাকিস্তানি সেনারাও নামাজ পড়ত—তাই বলে কি তারা যুদ্ধাপরাধী ছিল না? ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাদের এই ধরনের বয়ান বন্ধ করতে হবে। আমি একজন ক্ষুদ্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলছি, আমরা বাংলাদেশের কোনো আলেমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করিনি।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের যে আলেম সমাজ, তাদের তো তখন বয়সই ছিল না—অনেকের জন্মই হয়নি। আমাদের আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের বয়স তখন কত ছিল, বলেন? কাজেই আলেম সমাজকে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে কথা বলতে হবে।”

রঞ্জন বলেন, “আমরা জুলাই আন্দোলন করেছি। বাংলাদেশ আজ নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। মানুষ অপরাধ করবে—সে কারণেই দেশে আইন-কানুন রয়েছে। মানুষ তো ফেরেশতা নয়। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের স্বার্থে অপরাধ করে, আবার কেউ নিজের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কিছু ভুল পথে যায়। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, বিচারের নাম করে একটি দল বাণিজ্য করছে।”

বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। এ সময় ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে নির্বাচন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম প্রামানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

মিজানুর রহমান প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কটিয়াদীতে এনসিপির প্রচার কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের গণভোটকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা বাজার এলাকায় এ প্রচারণা কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক আবু সাঈদ (উজ্জ্বল)। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং গণভোটের গুরুত্ব ও দেশের উন্নয়নে ভোটাধিকার প্রয়োগের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রচারণাকালে আবু সাঈদ উজ্জ্বল বলেন, “দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক—এই মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সচেতনভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সব ধরনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সবাইকে নির্ভয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণা চলাকালে লিফলেট বিতরণ এবং সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান আরও জোরদার হয়।

বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে মার্কিন সিনেটর বড় ভাই দেশে এসে ভোট চাইলেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাক বাংলার মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে, যা একপর্যায়ে মহাসমাবেশে রূপ নেয়।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং তিনবারের মার্কিন সিনেটর শেখ মুজাহিদ রহমান চন্দন। তিনি বলেন, “আমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হতে পারি, তাহলে আমার ভাই কেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হতে পারবে না? গত ৪৬ বছর ধরে আমি বিদেশে অবস্থান করছি। এই সময়ে বাংলাদেশ অনেক উন্নয়ন করলেও বাজিতপুর ও নিকলী এখনো পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁস মার্কায় ভোট দিয়ে আমার ভাইকে জয়যুক্ত করুন।”

তিনি আরও বলেন, বাজিতপুর–নিকলীর মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়ায়, তবে এ জনপদে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “আমি আপনাদের কাছে একটি মাত্র ভোট ভিক্ষা চাই। আমাকে একটি ভোট দিন—আমি আপনাদের পাঁচ বছর নিরাপত্তা দেব। ইনশাল্লাহ, আপনারা দরজা খোলা রেখেই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি বাজিতপুর–নিকলীর মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকব। দল-মত নির্বিশেষে—হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে চাই।”

দলীয় বহিষ্কার প্রসঙ্গে ইকবাল বলেন, “আমার দলের যেসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের মাধ্যমে এই অন্যায়ের জবাব দেওয়া হবে। এই বিজয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।”

জনসভায় বাজিতপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয় এবং ডাক বাংলার মাঠে সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জনসমাবেশ।