ইনকিলাব মঞ্চে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ
শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের ‘হামলা’র প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে জেলা শহরের শহীদী মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আখড়া বাজার সেতু সংলগ্ন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে, শহীদী মসজিদের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভে হাদি হত্যার দ্রুত বিচার এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের কথিত ‘হামলা’র প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
এ সময় আন্দোলনকারীদের ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘পুলিশ লীগের বিরুদ্ধে—অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইয়ের ওপর হামলা কেন—ইন্টেরিম জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব ফয়সাল প্রিন্স, জেলা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক মুজাহিদ বিল্লাহ, মাওলানা এ কে এম নাজিমুদ্দিনসহ ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান কর্মসূচিতে পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। ফ্যাসিস্ট শাসনামলেও এমন নৃশংসতা দেখা যায়নি। তারা প্রশ্ন তোলেন, ইন্টেরিম সরকার ও পুলিশ কার স্বার্থে এই হামলা চালিয়েছে?
বক্তব্যে আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু ইন্টেরিম সরকারও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের দমননীতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। যারা মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা আজ সেই মানুষের ওপরই হামলা চালাচ্ছে। তারা বলেন, আমরা চুপ থাকব না। অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকে গুরুতর আহত হন।










