রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ ১৪৩২

ভৈরবে ট্রাক-ভ্যান সংঘর্ষে পিকআপ চালকের মৃত্যু

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে ট্রাক-ভ্যান সংঘর্ষে পিকআপ চালকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রাক ও পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৯ মার্চ) ভোরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পৌর শহরের শম্ভুপুর পাক্কার মাথা এলাকায় দেশের পটুয়ার নামের জুতার কারখানার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত পিকআপ চালকের নাম মো. মিরাজ (৪১)। তিনি ঢাকা যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়ার দক্ষিণ কুতুবখালী এলাকার শাহজাহান শেখের ছেলে।

ভৈরব হাইওয়ে থানার এসআই মো. রোকনুজ্জামান জানান, ভোরে পৌর শহরের শম্ভুপুর পাক্কার মাথা এলাকায় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি ট্রাক (রেজি: ঢাকা মেট্রো ট ২২-৭৬৬১) কুলিয়ারচর থেকে আসা ঢাকাগামী মাছ বহনকারী পিকআপ (রেজি: ঢাকা মেট্রো ন ২৩-১২০১) এর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে পিকআপ চালক মিরাজ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডা. ইসরাত জাহান হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর ট্রাক চালক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ও ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহতের মা রাবিয়া আক্তার নাছিমা হাইওয়ে থানায় ট্রাক চালককে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনগুলো উদ্ধার করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশনে পরিমাপ ও মান যাচাইয়ে প্রশাসনের আকস্মিক পরিদর্শন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশনে পরিমাপ ও মান যাচাইয়ে প্রশাসনের আকস্মিক পরিদর্শন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ‘মেসার্স দিদার এন্ড প্রিন্স ফিলিং স্টেশন’-এ তিনি এ পরিদর্শন পরিচালনা করেন। এ সময় ফিলিং স্টেশনটিতে গ্রাহকদের সঠিক মাপে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে কি না এবং জ্বালানির মান যথাযথ রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাম্প কর্তৃপক্ষকে সরকারি বিধিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পরিমাপে কোনো ধরনের কারচুপি না করার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নিকলীতে ঈদ উপহারের চাল নিয়ে অনিয়ম, ইউএনওর অভিযানে সিলগালা জব্দকৃত চাল

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
নিকলীতে ঈদ উপহারের চাল নিয়ে অনিয়ম, ইউএনওর অভিযানে সিলগালা জব্দকৃত চাল

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ঈদ উপহারের চাল জব্দ করে সিলগালা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি। প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে রাখা ৬৯ বস্তা চাল জব্দ করে সিলগালা করা হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে গত ১৮ মার্চ থেকে হতদরিদ্রদের মাঝে মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা ঈদের আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নে বিতরণ সম্পন্ন হলেও কারপাশা ইউনিয়নে তা শেষ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কারপাশা ইউনিয়নের ২ হাজার ৫৫৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে অনেকের কাছ থেকে চালের স্লিপ রেখে চাল না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঈদের চারদিন পরও চাল বিতরণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য পান যে, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ রাখা হয়েছে। পরে ২৫ মার্চ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযান চালিয়ে ৬৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করেন।

এ ঘটনার চার-পাঁচ দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রবিবার দুপুরে স্থানীয়রা প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

পরবর্তীতে বেলা ২টার দিকে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি, পিআইও মো. দেলোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চালগুলো জব্দ করে কক্ষ সিলগালা করেন।

এর আগে জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার জেরে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ‘দৈনিক কিশোরগঞ্জে’র এক প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির মাধ্যমে মানববন্ধন, মিছিল, পোস্টার-লিফলেট বিতরণসহ নানা মানহানিকর অপতৎপরতায় জড়ান এবং মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন, যা থানা পুলিশের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ঈদের আগে স্লিপ থাকা সত্ত্বেও তাদের চাল দেওয়া হয়নি। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলেনা (২৫), স্বপ্না (৩০) ও আয়শা বেগম (৩৫) জানান, তারা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চাল না পেয়ে ফিরে এসেছেন।

এ বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আদিত্য হাসান সাজন জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জামাল সর্দার দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন।

এ বিষয়ে ইউএনও রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে রাখা ৬৯ বস্তা চাল জব্দ করে সিলগালা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

১৯ হাজার শিক্ষার্থীর পুষ্টি নিশ্চিত করতে বাজিতপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
১৯ হাজার শিক্ষার্থীর পুষ্টি নিশ্চিত করতে বাজিতপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি উন্নয়ন ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১৯ হাজার ৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার ইন্দু ভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেসার্স মাহাদিয়া জান্নাত এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন সোহাগ, রাজিব আহমেদ, কর্মসূচির প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন, সিনিয়র উপদেষ্টা হায়দার আলীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সাপ্তাহিক খাদ্য তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে—রবিবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবার বিস্কুট ও কলা, বুধবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম এবং বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।