নিকলীতে ঈদ উপহারের চাল নিয়ে অনিয়ম, ইউএনওর অভিযানে সিলগালা জব্দকৃত চাল
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ঈদ উপহারের চাল জব্দ করে সিলগালা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি। প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে রাখা ৬৯ বস্তা চাল জব্দ করে সিলগালা করা হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে গত ১৮ মার্চ থেকে হতদরিদ্রদের মাঝে মাথাপিছু ১০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা ঈদের আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নে বিতরণ সম্পন্ন হলেও কারপাশা ইউনিয়নে তা শেষ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কারপাশা ইউনিয়নের ২ হাজার ৫৫৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে অনেকের কাছ থেকে চালের স্লিপ রেখে চাল না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঈদের চারদিন পরও চাল বিতরণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য পান যে, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ রাখা হয়েছে। পরে ২৫ মার্চ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযান চালিয়ে ৬৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করেন।
এ ঘটনার চার-পাঁচ দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রবিবার দুপুরে স্থানীয়রা প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পরবর্তীতে বেলা ২টার দিকে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি, পিআইও মো. দেলোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চালগুলো জব্দ করে কক্ষ সিলগালা করেন।
এর আগে জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার জেরে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ‘দৈনিক কিশোরগঞ্জে’র এক প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির মাধ্যমে মানববন্ধন, মিছিল, পোস্টার-লিফলেট বিতরণসহ নানা মানহানিকর অপতৎপরতায় জড়ান এবং মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন, যা থানা পুলিশের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ঈদের আগে স্লিপ থাকা সত্ত্বেও তাদের চাল দেওয়া হয়নি। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলেনা (২৫), স্বপ্না (৩০) ও আয়শা বেগম (৩৫) জানান, তারা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চাল না পেয়ে ফিরে এসেছেন।
এ বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আদিত্য হাসান সাজন জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জামাল সর্দার দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন।
এ বিষয়ে ইউএনও রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে রাখা ৬৯ বস্তা চাল জব্দ করে সিলগালা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array