গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে: রাজনৈতিক দলের দ্বিধা ও চ্যালেঞ্জ
‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ উত্তরের গণভোটকে ঘিরে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাদেশ জারি হলেও সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো প্রচারণা নেই, দলগুলোর মধ্যে নেই সমন্বিত প্রচারণা পরিকল্পনা, এবং ৯৫ ভাগ মানুষ এখনো গণভোটের প্রশ্ন সম্পর্কে অবগত নন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, গণভোটের ফলাফল ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবু দিনক্ষণ নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল অনড় অবস্থানে রয়েছে। তারা মনে করেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে রাষ্ট্রপতি গণভোট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ (অধ্যাদেশ নম্বর-৬৭) জারি করেছেন। এতে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ের জন্য গণভোট হবে। তবে জনসাধারণের ৯৫ ভাগ এখনও ভোট সংক্রান্ত চারটি প্রশ্ন সম্পর্কে অবগত নন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, গণভোটে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন চাইলে আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সুষ্ঠু গণভোট আয়োজন করা সম্ভব।
জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করলে ভোটার বিভ্রান্ত হবেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জনগণকে গণভোটের বিষয় ও ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি, কারণ মক ডেমোনস্ট্রেশন যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি।







