শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ সব শহীদ বুদ্ধিজীবীকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৪ ডিসেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করার দিন। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন। তাঁদের জীবন ও কর্ম আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল দেশকে মেধাশূন্য করার একটি গভীর ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত, যার উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যার সেই ঘটনা আজও পুরো জাতিকে বেদনাহত করে। তবে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা যে আদর্শ রেখে গেছেন—জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা, মুক্ত চিন্তা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সম্প্রীতির চেতনা এবং একটি উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার প্রত্যয়—তা আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণই ছিল তাঁদের অভীষ্ট লক্ষ্য।
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পেরিয়ে গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়েছে এবং একদলীয় দুঃশাসনের পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। অনেক রক্ত ঝরলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং লেখার ও বলার অধিকার এখনো সংকটমুক্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহুপথ ও বহুমতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।







