মনোনয়নপত্রে মৃত ভোটারের স্বাক্ষর: চট্টগ্রাম-১ আসনে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই উপজেলা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় এক মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় পার্টির (জাকের) প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্ল্যার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়ে সাতজন ভোটার তাদের স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে দাখিল করা প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় এক মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়। অপরদিকে জাতীয় পার্টির (জাকের) প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্ল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী চার কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম-১ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল এবং সাতজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন— জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল-রেজি-৪০) শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন, জেএসডির এ কে এম আবু ইউসুফ, জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।
এদিকে, এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার তিনটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মোট ২৩১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ১৪৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সবচেয়ে বেশি ১২টি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা) আসনে। আর সবচেয়ে কম তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে।







