সীমানা জটিলতায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত
সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে ইসি। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
পরিপত্রে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ (পাবনা-১) ও ৬৯ (পাবনা-২)-এর সীমানা সংক্রান্ত মামলায় গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদেশ দেন। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই আসনে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে ইসি। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলার সমন্বয়ে পাবনা-২ আসন নির্ধারণ করা হয়।
এই গেজেটের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ও সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।
রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার দুইটি সংসদীয় আসন আগের সীমানায় পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। এতে পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। অপরদিকে, বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) এবং নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে আবেদন করেন। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য উপস্থাপিত হয়। সেদিন আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
পরবর্তীতে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।







