নানা কর্মসূচিতে জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন বিএনপির
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পালিত এবারের জন্মদিনে দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
গতকাল সোমবার সকালে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, কেন্দ্রীয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, শীতবস্ত্র বিতরণ, ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
দুপুরে কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে।
দলীয় প্রার্থিতা বাতিল, পোস্টাল ব্যালটসহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা থাকতেই পারে, এটি নতুন কিছু নয়। তবে সামগ্রিকভাবে কমিশনের কার্যক্রমকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব বিষয় নিয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল, তা কমিশনের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করা যায়, কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে।
মাঠপর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির কাছে বর্তমানে এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।
জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখিয়েছেন তিনি।
ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বিএনপি শপথবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করা হয়। পরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এবং পরে বিএনপি গঠন করেন। ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর দলের নেতৃত্ব দেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া, যিনি পরবর্তীতে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো আলোচনা সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করে। শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। ড্যাবের উদ্যোগে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার(২০ জানুয়ারি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে: শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আলোচনা সভায় বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন।







