৭ লাখ মুসল্লির ঢল, শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত
শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রেখে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারও দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এই জামাত।
শনিবার (২১ মার্চ) ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়া ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ময়দানের ভেতরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, খোলা স্থান এবং নিকটবর্তী ভবনের ছাদেও অনেকে নামাজ আদায় করেন।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের জামাতে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়। একাধিক তল্লাশি পয়েন্ট অতিক্রম করে তারা জামাতে শরিক হন। সকাল ১০টায় জামাত শুরু হয়। এতে ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে তিনি গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে অংশ নিয়ে অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, প্রায় একশ’ বছর আগে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ঘটনা থেকে ‘সোয়ালাখিয়া’ নামের উৎপত্তি, যা পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, নামাজ শুরুর আগে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়।
এবারের ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের এই জামাতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় ৭ লাখ মুসল্লি অংশ নেন। ঈদগাহ ময়দান মুসল্লিদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এবারের জামাত ছিল নজিরবিহীন। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেন কিশোরগঞ্জে আসে।
এছাড়া মুসল্লিদের জন্য অজু ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরঘেঁষে প্রায় সাড়ে ৬ একর জমির ওপর অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সুশৃঙ্খলভাবে জামাত সম্পন্ন হয়।
ঈদের এই বৃহৎ জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল), পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।










