করিমগঞ্জে ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন নাগরিকরা।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় করিমগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন করিমগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সুমন মোড়ল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলেম রাসেল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বজলুর রহমান, সমাজসেবক বায়েজিদ হোসেন হৃদয়সহ আরও অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর করিমগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ইউএনও তাহমিনা আক্তার উপজেলা ও পৌরসভাকে দুর্নীতি ও অনিয়মের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। সরকারি বিধি-বিধান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শুরু থেকেই নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। বক্তারা বলেন, পৌরসভার নিজস্ব সিএনজি স্ট্যান্ড না থাকলেও গোপনে অবৈধ ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্ধারিত ড্রেন নির্মাণ না করেই বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার সড়কবাতি অচল থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাশাপাশি পানি সংযোগ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ পৌরসভার প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জন টিসিবি কার্ডধারী নিয়মিত পণ্য পাচ্ছেন না।
বক্তারা আরও বলেন, পৌরসভা থেকে বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ২০ ও ৫০ টাকা ফি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা চরম স্বেচ্ছাচার ও জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ইউএনও ফ্যাসিবাদী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা ও পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থেকেও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কিছু চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি প্রকল্পের অর্থ থেকে চেয়ারম্যান ও সচিবদের বিলাসী ভ্রমণ এবং দামী রিসোর্টে অবস্থানের খরচ বহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
বক্তারা দাবি করেন, এডিপি ও এলজিএসপিসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। পছন্দের ঠিকাদার ও ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ বণ্টনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।
এ সময় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা করিমগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি হাবিবুর রহমান বিপ্লব অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। দুর্নীতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করা হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সাংবাদিকদের সহযোগিতা করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে ইউএনও তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং করিমগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।













