বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

করিমগঞ্জে ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জে ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মানববন্ধন


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা ও পৌরসভার সচেতন নাগরিকরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় করিমগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন করিমগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সুমন মোড়ল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলেম রাসেল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বজলুর রহমান, সমাজসেবক বায়েজিদ হোসেন হৃদয়সহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর করিমগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ইউএনও তাহমিনা আক্তার উপজেলা ও পৌরসভাকে দুর্নীতি ও অনিয়মের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। সরকারি বিধি-বিধান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শুরু থেকেই নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। বক্তারা বলেন, পৌরসভার নিজস্ব সিএনজি স্ট্যান্ড না থাকলেও গোপনে অবৈধ ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্ধারিত ড্রেন নির্মাণ না করেই বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার সড়কবাতি অচল থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাশাপাশি পানি সংযোগ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ পৌরসভার প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জন টিসিবি কার্ডধারী নিয়মিত পণ্য পাচ্ছেন না।

বক্তারা আরও বলেন, পৌরসভা থেকে বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ২০ ও ৫০ টাকা ফি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা চরম স্বেচ্ছাচার ও জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ইউএনও ফ্যাসিবাদী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা ও পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থেকেও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কিছু চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি প্রকল্পের অর্থ থেকে চেয়ারম্যান ও সচিবদের বিলাসী ভ্রমণ এবং দামী রিসোর্টে অবস্থানের খরচ বহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বক্তারা দাবি করেন, এডিপি ও এলজিএসপিসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। পছন্দের ঠিকাদার ও ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ বণ্টনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।

এ সময় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা করিমগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি হাবিবুর রহমান বিপ্লব অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। দুর্নীতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করা হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সাংবাদিকদের সহযোগিতা করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হচ্ছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে ইউএনও তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং করিমগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বুধবার(২২ জুলাই) কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাছরিফুল হাছিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। চিকিৎসার অভাবে যাতে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়, সে লক্ষ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা সহায়তা ও বিশেষ অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। সেই কষ্ট লাঘব করতেই সরকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।

বক্তারা বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সুফল ইতোমধ্যে লাখো মানুষ পাচ্ছেন। চিকিৎসা সহায়তার এ বিশেষ অনুদান কর্মসূচিও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আটজন অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। উপকারভোগীরা সরকারের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উপকারভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে পাকুন্দিয়ার সেরা আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে পাকুন্দিয়ার সেরা আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের ঐক্য, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যুক্তি, তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা এবং দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণবন্ত বিতর্কে অংশ নেয়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসতেহাদ আহমেদ এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুন্নাহার।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া এবং উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তামান্না দিলশাত রিমি। মডারেটর ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শারফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক তরীকুল হাসান শাহীন। এ সময় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয় ও আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা, তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য এবং বিশ্লেষণধর্মী বিতর্কের মাধ্যমে আসিয়া বারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। আয়োজকরা জানান, চ্যাম্পিয়ন দলটি পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রতিনিধিত্ব করবে।

পাকুন্দিয়ায় কৃষক হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় কৃষক হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আলোচিত কৃষক নুর ইসলাম (৭০) হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পোড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন— হাতিছ মিয়া (৪০) ও রশিদ মিয়া (৬৫)। তারা উভয়েই কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

র‍্যাব জানায়, নিহত নুর ইসলাম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায়ই নুর ইসলামের আবাদি জমির ফসল গবাদিপশু দিয়ে নষ্ট করতেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা হয়।

গত ২৩ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নুর ইসলাম নিজ ফসলি জমিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোবারক মিয়া বাদী হয়ে ২৪ জুন পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ১১৪, ৫০৬ ও ৩৪ ধারার সঙ্গে পরবর্তীতে ৩০২ ধারা সংযুক্ত করে রুজু করা হয়।

মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-১৪-এর সিপিসি-২ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে র‍্যাব-১-এর সিপিএসসি পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সহায়তায় গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পোড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41