শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের’ প্রতিবাদে বাজিতপুরে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের’ প্রতিবাদে বাজিতপুরে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ইফতেখার হায়দার ইফতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইফতেখার হায়দার ইফতি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি বাজিতপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে তাঁর নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারী ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

ইফতি বলেন, ঘটনার দিন তিনি এক বন্ধুকে পৌঁছে দিয়ে নিজ বাসায় ফিরে যান। পরে বাজিতপুর থানার এক কর্মকর্তার কাছ থেকে রেলস্টেশন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কীভাবে ঘটনা ঘটেছে বা কারা এতে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে তখন তাঁর কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ওই দিন সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখার হায়দার ইফতি অভিযোগ করেন, একই দিন রাতে কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আনাস ইব্রাহিম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত উপজেলা, পৌর, কলেজ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছাত্রদল সবসময় সোচ্চার। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

এ সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংঘটিত ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি সোহেল হাসপাতালে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি সোহেল হাসপাতালে ভর্তি

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী ও জননেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে নিউরোসার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রবার্ট আহমেদ খান ও অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার সার্বিক মূল্যায়ন করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও সে সময়কার প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতা নিয়েও তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি ব্যাপক কর্মব্যস্ততা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পুরোনো শারীরিক সমস্যাটি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বহন করলেও জনসেবামূলক দায়িত্ব পালনে কখনো পিছিয়ে যাননি। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জেলার উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত সম্পৃক্ত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা উল্লেখ করেন।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ভিপি সোহেল’ নামেই অধিক পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত। গুরুদয়াল সরকারি কলেজের প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিভিন্ন দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দলীয় রাজনীতিতে সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে তিনি কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি কারাবরণ করেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের কারণে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান।

রাজনীতির পাশাপাশি গণমাধ্যম অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি ‘দৈনিক কিশোরগঞ্জ’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ও সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক সকালবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ‘আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গণমাধ্যমের বিকাশ, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

এ ছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে তাঁর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত সুস্থতা, সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের সফলতা এবং শারীরিক সুস্থতা কামনা করে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সবার আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও জনসেবা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

কিশোরগঞ্জে নজরুল বর্ষ উদযাপন, সাম্য ও মানবতার চেতনা তুলে ধরলেন বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে নজরুল বর্ষ উদযাপন, সাম্য ও মানবতার চেতনা তুলে ধরলেন বক্তারা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের বহুমাত্রিক তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিদ্দিক উল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ, সাম্য, মানবতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত কেবল সৃজনশীলতার অনন্য নিদর্শন নয়; বরং তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবমুক্তির আহ্বান এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার এক শক্তিশালী প্রেরণা।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবির আদর্শ ও মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে হবে। তাঁর সাম্য, মানবতা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ধারণ করতে পারলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পরিবেশনাগুলোর মাধ্যমে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মের নান্দনিকতা, মানবপ্রেম এবং চিরন্তন আবেদন দর্শক-শ্রোতাদের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির সাম্য ও সম্প্রীতির বাণীও স্মরণ করা হয়। তাঁর বহুল উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তি—

“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান,
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।”

এ ছাড়া তাঁর আরেকটি কালজয়ী উচ্চারণ—

“মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”

উদ্ধৃত করে বক্তারা বলেন, নজরুলের এই চেতনা আজও মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

সংগ্রহীত

কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনকে নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় মানুষের মতামত ও যাত্রীদের বাস্তব প্রয়োজন উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ‘আমরা কিশোরগঞ্জবাসী’ ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ রেলযাত্রী অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস শুধু একটি আন্তঃনগর ট্রেন নয়; এটি কিশোরগঞ্জবাসীর রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। প্রতিদিন চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে জেলার হাজারো মানুষ এই ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল।

তাঁদের দাবি, ট্রেনটির গন্তব্য নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে যাত্রাপথ দীর্ঘ হবে এবং সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বা বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হবে। এতে কিশোরগঞ্জের নিয়মিত যাত্রীরা টিকিট সংকট ও যাতায়াতের দুর্ভোগের পাশাপাশি আরও ভোগান্তির মুখে পড়বেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন বলেন, “কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির ফসল। কিশোরগঞ্জবাসীর স্বার্থ উপেক্ষা করে ট্রেনটির গন্তব্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নিয়ে যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে কিশোরগঞ্জের মানুষ বসে থাকবে না। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সংখ্যা এমনিতেই সীমিত। প্রতিদিন হাজারো মানুষ টিকিট সংকট ও যাতায়াতের দুর্ভোগে পড়ছেন। এ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস অন্য জেলায় সম্প্রসারণ করা হলে জেলার মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কিশোরগঞ্জবাসীর মতামত বিবেচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ট্রেনটিকে আগের মতো কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটেই পরিচালনার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধন চলাকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের একাংশ ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ করেন। তবে এতে ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

বক্তারা দাবি বাস্তবায়নে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়জন সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলহাজ ফরিদ আহাম্মদ, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সাঈদ, সমাজসেবক মুরাদ ভুঁইয়া ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান।

কর্মসূচির উদ্যোক্তা তোফায়েল তপু বলেন, “কিশোরগঞ্জবাসীর ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।