কিশোরগঞ্জে নজরুল বর্ষ উদযাপন, সাম্য ও মানবতার চেতনা তুলে ধরলেন বক্তারা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের বহুমাত্রিক তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিদ্দিক উল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ, সাম্য, মানবতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত কেবল সৃজনশীলতার অনন্য নিদর্শন নয়; বরং তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবমুক্তির আহ্বান এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার এক শক্তিশালী প্রেরণা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবির আদর্শ ও মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে হবে। তাঁর সাম্য, মানবতা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ধারণ করতে পারলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পরিবেশনাগুলোর মাধ্যমে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মের নান্দনিকতা, মানবপ্রেম এবং চিরন্তন আবেদন দর্শক-শ্রোতাদের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির সাম্য ও সম্প্রীতির বাণীও স্মরণ করা হয়। তাঁর বহুল উদ্ধৃত পঙ্ক্তি—
“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান,
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।”
এ ছাড়া তাঁর আরেকটি কালজয়ী উচ্চারণ—
“মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”
উদ্ধৃত করে বক্তারা বলেন, নজরুলের এই চেতনা আজও মানবতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।







