মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি সোহেল হাসপাতালে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি সোহেল হাসপাতালে ভর্তি

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী ও জননেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে নিউরোসার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রবার্ট আহমেদ খান ও অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার সার্বিক মূল্যায়ন করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও সে সময়কার প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতা নিয়েও তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি ব্যাপক কর্মব্যস্ততা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পুরোনো শারীরিক সমস্যাটি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বহন করলেও জনসেবামূলক দায়িত্ব পালনে কখনো পিছিয়ে যাননি। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জেলার উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত সম্পৃক্ত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা উল্লেখ করেন।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ভিপি সোহেল’ নামেই অধিক পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত। গুরুদয়াল সরকারি কলেজের প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিভিন্ন দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দলীয় রাজনীতিতে সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে তিনি কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি কারাবরণ করেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের কারণে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান।

রাজনীতির পাশাপাশি গণমাধ্যম অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি ‘দৈনিক কিশোরগঞ্জ’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ও সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক সকালবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ‘আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গণমাধ্যমের বিকাশ, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

এ ছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে তাঁর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত সুস্থতা, সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের সফলতা এবং শারীরিক সুস্থতা কামনা করে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সবার আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও জনসেবা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা বৃষ্টিতে মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়ক ধস, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর-চালিয়াগোপ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ভারী বর্ষণের মধ্যে চরফরাদী ইউনিয়নের নামা মির্জাপুর গ্রামের শামছ ফাতেমা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি মির্জাপুর, নামা মির্জাপুর, বর্ষাগাতি, কুড়তালা, চালিয়াগোপ ও দিয়াপাড়া গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে কোনো রকমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম বলেন, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। সড়কটি ধসে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চরফরাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সৈয়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এলজিইডির অধীনে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

শাহীন আলম প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌদ্দশত পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই-বোন সবাই এই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কখনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেনি; বরং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাদরাসা ও অধ্যক্ষের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শাহীন আলম বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষ কখনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি; বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে কম টাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বর্তমান শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আচরণও ইতিবাচক। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে একটি মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁদের ধারণা। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

নোহার নান্দলা ফাজিল মাদরাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদরাসাটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে তাঁরা সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মিত রসিদ দেওয়া হয়েছে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কমিশন ও মাটি কাটার অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্বৃত্ত অর্থ মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজেই ব্যয় করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে এক অভিভাবক মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব গোপন রাখার অভিযোগ তোলেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার বৃষ্টির মধ্যেও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।

ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে শতবর্ষী ভবনের বারান্দা ধস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি পুরোনো ভবনের বারান্দার একাংশ ধসে পড়েছে। রোববার (১২ জুলাই) রাতে ভৈরব বাজারের দুধপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এক ডিম ব্যবসায়ী ও কয়েকজন পথচারী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধসে পড়া ভবনটি প্রায় শতবর্ষী এবং দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ঘটনার সময় বৃষ্টির কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া বাজারেও স্বাভাবিকের তুলনায় ভিড় কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে।

খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশিদ এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সরোয়ার বাতেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এ কারণে ভৈরব পৌরসভা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিক তারেক আহমেদকে নোটিশ দেয়। তবে নোটিশের পরও ভবনটির দোতলা জাল ব্যবসায়ীদের গুদাম এবং নিচতলা ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনটি দ্রুত ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনুর রশিদ বলেন, “ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবন মালিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41