কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী ও জননেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে নিউরোসার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রবার্ট আহমেদ খান ও অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার সার্বিক মূল্যায়ন করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও সে সময়কার প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতা নিয়েও তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি ব্যাপক কর্মব্যস্ততা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পুরোনো শারীরিক সমস্যাটি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বহন করলেও জনসেবামূলক দায়িত্ব পালনে কখনো পিছিয়ে যাননি। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জেলার উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত সম্পৃক্ত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা উল্লেখ করেন।
খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ভিপি সোহেল’ নামেই অধিক পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত। গুরুদয়াল সরকারি কলেজের প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিভিন্ন দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দলীয় রাজনীতিতে সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে তিনি কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি কারাবরণ করেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের কারণে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান।
রাজনীতির পাশাপাশি গণমাধ্যম অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি ‘দৈনিক কিশোরগঞ্জ’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ও সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক সকালবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ‘আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গণমাধ্যমের বিকাশ, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
এ ছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে তাঁর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত সুস্থতা, সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের সফলতা এবং শারীরিক সুস্থতা কামনা করে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সবার আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও জনসেবা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।