শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ৩০ ১৪৩২
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ৩০ ১৪৩২

সৌদি সরকারের উপহার খেজুর বাজিতপুরে ২৪টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সৌদি সরকারের উপহার খেজুর বাজিতপুরে ২৪টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ

 রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ-এর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার খেজুর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সৌদি সরকারের এই উপহার কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য মোট ২৮৭ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে বাজিতপুর উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৬ কার্টুন খেজুর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এসব খেজুর উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। ইতোমধ্যে উপজেলার ২৪টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খেজুর বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট আরও দুটি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে খেজুর বিতরণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— মাহাজারুল উলুম জ্ঞানপুর, নুরুল উলুম পৈলানপুর, মিফতাহুল উলুম দিলালপুর, এমদাদিয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম নুমানিয়া, দারুস সালাম দিঘীরপাড়, উদাতি কান্দি দিলালপুর, বাগপাড়া দিলালপুর, চারবাড়ি পৌরসভা সিরাজিয়া মাদ্রাসা, পিরিজপুর বাজিতপুর বাজার মাদ্রাসা, আলিমুদ্দিন মহিলা মাদ্রাসা, তাজবিদুল মাদ্রাসা পাটুলী, বাজিতপুর ইসলামিয়া কমপ্লেক্স, মিত্রাদুল উলুম হুমাইপুর, উত্তর সরারচর মারকাজুল উলুম মাদ্রাসা, রিয়াজুল জান্নাত সরারচর ইসলামিয়া এতিমখানাসহ মোট ২৪টি প্রতিষ্ঠান।

খেজুর বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার আবু বক্করসহ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদের শিক্ষকবৃন্দ। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা খেজুরের কার্টুন গ্রহণ করেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি সরকারের এ উপহার বিশেষ সহায়ক হবে।

নিকলীতে সাংবাদিক আটককে ঘিরে বিতর্ক: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
নিকলীতে সাংবাদিক আটককে ঘিরে বিতর্ক: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ

(বামে) সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত ও (ডানে) সাংবাদিক আলী জামসেদ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে দৈনিক দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর নিকলী প্রতিনিধি সাংবাদিক আলী জামসেদের আটকের ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত-এর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নিকলী হাসপাতাল মোড় এলাকায় আলী জামসেদ একটি দোকানে বসে থাকাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়, রাস্তার পাশে রাখা একটি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে আটক করা হয়েছে।

সাংবাদিক আলী জামসেদ দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি তার নয়। বিষয়টি বারবার জানালেও তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা তাকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ওই মোটরসাইকেলের মালিকানা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। পরে ‘অশোভন আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তাকে নিকলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে তাকে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে এক মুক্তিযোদ্ধার নাতি রিকশাচালককে মারধর এবং কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে খাস জমি থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। এসব সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আলী জামসেদকে আটক করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

তবে এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত বলেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাকে আটক করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে পুলিশ আলী জামসেদকে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হস্তান্তর করে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ভৈরবে ভাইকে বেঁধে মারধর ও হেনস্তা: ভিডিও ভাইরাল, ছোট ভাই গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ভাইকে বেঁধে মারধর ও হেনস্তা: ভিডিও ভাইরাল, ছোট ভাই গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ভাইদের দ্বারা হেনস্তা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ভৈরব শহরজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম অপহরণের অভিযোগ এনে ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টার দিকে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার ভাই রতন মিয়া (৫৫) ও জুনায়েদ হোসেন জানু (৪২)-এর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের টান কৃষ্ণনগর গ্রামে ঘটে। অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা ওই গ্রামের মৃত আবু তাহের মিয়ার ছেলে।

মামলার পর রাতেই জুনায়েদ হোসেন জানু নামে এক ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার ভাই রতন মিয়া ও জুনায়েদ হোসেন জানুসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুর্জয় মোড় থেকে রতন মিয়া ও জুনায়েদ হোসেন জানু তাদের সহযোগীদের নিয়ে নজরুল ইসলামকে অপহরণ করেন। পরে তাকে গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তার মধ্যে মারধর ও হেনস্তা করা হয়।

তিনি আরও জানান, হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। পরে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, নজরুল ইসলামকে মারধর করে অপমান ও অপদস্থ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত জুনায়েদ হোসেন জানুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, বাবার সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তিনি জানান, বিকেলে মুসলিমের মোড় থেকে দুর্জয় মোড় যাওয়ার পথে তার ভাইয়েরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে গলায় একটি প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তায় হাঁটিয়ে মারধর করা হয়। তাকে বাঁচাতে গেলে তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকেও মারধর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্পত্তির বিরোধের জেরে ভাইয়েরা তাকে হত্যার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

বাজিতপুরে পিডিবির সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বাজিতপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে পিডিবির সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহীদুজ্জামান সেলিমের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ভেঙে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হোসাইন মিয়া।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে বাজিতপুর উপজেলার গাজীরচর ইউনিয়নের শাহজালাল বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. হোসাইন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বাজিতপুর পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী শহীদুজ্জামান সেলিম দীর্ঘদিন ধরে কিছু বেসরকারি লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই প্রকৌশলী তার লোকজনের মাধ্যমে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা দিলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সহকারী প্রকৌশলী ও তার সহযোগীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করেন। এর আগেও চাঁদা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী হোসাইন মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে তার গ্যারেজ থেকে মাত্র ছয়টি অটোচার্জার জব্দ করা হলেও তার নামে ৩০টি অটোরিকশা সংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সহকারী প্রকৌশলী শহীদুজ্জামান সেলিমসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।