নিকলীতে সাংবাদিক আটককে ঘিরে বিতর্ক: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ
(বামে) সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত ও (ডানে) সাংবাদিক আলী জামসেদ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে দৈনিক দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর নিকলী প্রতিনিধি সাংবাদিক আলী জামসেদের আটকের ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত-এর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নিকলী হাসপাতাল মোড় এলাকায় আলী জামসেদ একটি দোকানে বসে থাকাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়, রাস্তার পাশে রাখা একটি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে আটক করা হয়েছে।
সাংবাদিক আলী জামসেদ দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি তার নয়। বিষয়টি বারবার জানালেও তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা তাকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ওই মোটরসাইকেলের মালিকানা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। পরে ‘অশোভন আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তাকে নিকলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে তাকে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে এক মুক্তিযোদ্ধার নাতি রিকশাচালককে মারধর এবং কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে খাস জমি থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। এসব সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আলী জামসেদকে আটক করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত বলেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাকে আটক করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে পুলিশ আলী জামসেদকে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হস্তান্তর করে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।




