বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

পরাজিত হলেও কখনো কাউকে ছেড়ে যাইনি: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পরাজিত হলেও কখনো কাউকে ছেড়ে যাইনি: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও থেকে নানা সময় নির্বাচন করে পরাজিত হলেও কখনও কাউকে ছেড়ে যায়নি বলে বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ে সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও এ মনোনীত হওয়ার পরে কখনও জয়ী হয়েছি, কখনও পরাজিত হয়েছি, কিন্তু কখনও কাউকে ছেড়ে যাইনি। নতুন করে গণতন্ত্র ফিরে পাবার যে সুযোগটা পেয়েছি সেটা যেনো ভুলবশত না হারাই। ফ্যাসিস্টদের কবলে যেনো আর না পড়ি। ফ্যাসিস্টদের আর দেখতে চায়না মানুষ।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে সে নির্বাচনে। বিএনপি সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। ৬ বছর বেগম জিয়া কারাভোগ করেছেন। গুম, খুন নির্যাতন, তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনি ফিরতে পারেননি এখনও।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে তাদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন হবে। যারা ফ্যাসিস্ট বিরোধী ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে ছিলেন, তাদের কেউ কেউ ভিন্ন মত দিচ্ছেন। রাজপথে আন্দোলন করছেন যেসব দাবিতে সেই দাবিগুলো নির্বাচিত পার্লামেন্টে সমাধান করতে হবে।

সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থানের ব্যাপারে জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার বিএনপি চায়, জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই সংস্কার শুরু হয়েছে যা চলমান। কঠিন পরীক্ষা সামনে, গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। গণতন্ত্রই একমাত্র পথ যা সমস্ত মানুষের ইচ্ছার বিকাশ ঘটাতে পারে।

ফখরুল বলেন, গণমাধ্যমের কাছে বিএনপির প্রত্যাশা, চটকদার কোন সংবাদ যা বেশি বিক্রি হবে এমন সংবাদ না করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও যেনো দায়িত্বশীল আচরণ করে সবাই।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে সেসব কাজ সম্পন্ন করতে, যেগুলো গণতন্ত্রের জন্য কাজে লাগবে।

সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য যে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল সেখানে যে বিষয়গুলো একমত হয়েছে সেগুলো নিয়ে আগামী ১৭ তারিখ রাজনৈতিক দলগুলো সনদে সাক্ষর করবে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেছেন, যেসব বিষয়ে একমত হয়নি সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে যেতে হবে, সেখানে তাদের ম্যান্ডেট নিয়ে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। গণতন্ত্রের বিকল্প শুধুই গণতন্ত্র।

গণভোট নিয়ে ফখরুল বলেন, গণভোটের বিষয়ে বিএনপি তাদের মতামত দিয়েছে, বিএনপির মতামত জাতীয় নির্বাচনের দিনই হতে পারে গণভোট।

হাওর-জলাভূমি রক্ষায় কঠোর আইন: জারি হলো অধ্যাদেশ-২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
হাওর-জলাভূমি রক্ষায় কঠোর আইন: জারি হলো অধ্যাদেশ-২০২৬

দেশের হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

হাওর বা জলাভূমি অবৈধ দখল, ভরাট কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পাবলিক রিলেশন্স অফিসার) এ তথ্য জানান।

অধ্যাদেশে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জারিকৃত ‘সুরক্ষা আদেশ’ লঙ্ঘন, হাওর-জলাভূমি ও কান্দার অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত খনন কিংবা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে এমন অবকাঠামো নির্মাণের মতো অপরাধের জন্য অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অধ্যাদেশে এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অ-জামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন এবং মাটি, বালু বা পাথর আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী ধরা, জলাবন বিনষ্ট করা এবং বিষটোপ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গঠিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’-কে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অধিদপ্তর নিশ্চিত করবে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনসাধারণের জীবিকায় কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না।

সরকার চাইলে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো স্থাপনা থাকলে অধিদপ্তর তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ১৩ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতি দেন।

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দলের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত করা হয়।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজই প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানি: ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানি: ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি শুরু হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ক্রমিক নম্বর ৩৮১ থেকে ৪৮০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি গ্রহণ করবেন।

এর আগে গতকাল বুধবার শুনানির পঞ্চম দিনে ১০০টি আপিলের শুনানি শেষে ৭৩টি মঞ্জুর, ১৭টি নামঞ্জুর এবং ১০টি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত পাঁচ দিনে (শনিবার থেকে বুধবার) মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। নামঞ্জুর বা বাতিল হয়েছে ৮১টি। আর বিভিন্ন কারণে অপেক্ষমাণ রয়েছে ২৩টি আপিল।

কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৪৮১ থেকে ৫১০ নম্বর এবং অপেক্ষমাণ আপিলের শুনানি হবে। এরপর ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর এবং ১৮ জানুয়ারি (রোববার) শেষ দিনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর ও অবশিষ্ট অপেক্ষমাণ আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শেষ হবে।

এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।