বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিলের আন্দোলনে মশাল মিছিলে প্রাণ গেল বিএনপি কর্মীর
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে বিএনপির বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারী মো. মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে বিতর্কিত প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিল শুরুর প্রাক্কালে হঠাৎ করে মো. মিজানুর রহমান অসুস্থ অনুভব করেন এবং লুটিয়ে পড়েন। এ সময় পাশে থাকা অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে ধরাধরি করে দ্রুত কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত মো. মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের প্যারাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. চান্দু মিয়ার ছেলে এবং মারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিএনপি কিশোরগঞ্জ-০১ আসনে মাজহারুল ইসলামকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে পরদিন শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশব্যাপী বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ কর্মসূচি থাকায় পরিস্থিতি আপাতত শান্ত ছিল।
এরপর শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তৃণমূল বিএনপির নেতাদের চাপের মুখে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং কর্মসূচি দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপরই মাজহারুল ইসলাম ও বিতর্কিত জেলা সভাপতি শরীফুল আলমের সমর্থকরা বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের স্লোগানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
পরদিন রবিবার (৭ ডিসেম্বর) মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় সব নেতাই আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় কয়েকজন নেতা একত্রিত হয়ে আন্দোলন জোরদার করেন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেলের সভাপতিত্বে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হিলালী। এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্পেশাল জজ ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন এবং সাবেক জেলা সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত প্রার্থীর মনোনয়ন পরিবর্তন করে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। ওই মশাল মিছিলে অংশ নিয়েই স্লোগান দিতে দিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তৃণমূল বিএনপির এই নেতা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানান, মশাল মিছিল চলাকালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রচণ্ড শীতজনিত কারণে তিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় আন্দোলনরত নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শেষ সময়ের দাবির বাস্তবায়নের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জবাসীর জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ শহর গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।










