আপিল শুনানি শেষে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
এর আগে একটি মামলার বিষয় উল্লেখ করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল শুনানিতে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও উত্থাপিত আপত্তিসমূহ পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য বলে রায় দেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি দুই যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় মনোনয়নও পান।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা তাঁর দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে বাজিতপুর–নিকলী আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। এতে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন।
মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সমর্থকেরা দীর্ঘ সময় আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। তবে দলীয় মনোনয়ন ফিরে না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ৩ জানুয়ারি তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেন। আপিল শুনানি শেষে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইনগত সব বাধা দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।







