১৭ বছর ধরে ভাত খান না কুলিয়ারচরের ইনু মিয়া, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তবেই ভাত খাবেন
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বাসিন্দা ইনু মিয়া (৭৮) টানা ১৭ বছর ধরে ভাত খান না। তাঁর ঘোষণা—পছন্দের দল বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধেও মন গলেনি তাঁর। মনের আশা পূরণ না হলে কোনো দিনই ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞায় অটল রয়েছেন তিনি।
ইনু মিয়া উপজেলার রামদী ইউনিয়নের জগৎচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সুলায়মান মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি কৃষিশ্রমিক ছিলেন। কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনায় বাম পায়ে আঘাত পান। এরপর থেকে শারীরিক অক্ষমতার কারণে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
নিজেকে বিএনপির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইনু মিয়া বলেন, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন। ওই ঘটনার পরদিনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না।
গত সোমবার কুলিয়ারচরের রামদী ইউনিয়নের জগৎচর পশ্চিমপাড়ায় স্থানীয় বিএনপির একটি কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতাকর্মীরা ভাত-তরকারি নিয়ে ইনু মিয়াকে খাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলেই কেবল তিনি ভাত খাবেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘যদি ইনু ভাইয়ের মনের আশা পূরণ হয়, তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ভাত খাওয়ানো হবে।’
বুধবার ইনু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাত না খেলেও তিনি অন্যান্য খাবার গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের খবর পেলেই তিনি প্রকাশ্যে ভাত খাবেন।
ইনু মিয়ার ভাষায়,
‘খবর পাইলে বাসস্ট্যান্ডে আইয়া মানুষের সামনে ভাত খাইমু। যেন সবাই জানে, আমার মনের আশা পূরণ হইছে—এই জন্যই আমি ভাত খাইতাছি।’







