দুই প্রতীক, এক আসন—রিকশা নাকি দেয়ালঘড়ি?
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোছাদ্দেক ভূঞা। তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর জন্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, গত বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একই জোটভুক্ত দুই দলের প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ নিয়েছেন।
এদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী পেয়েছেন ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীক এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী পেয়েছেন ‘রিকশা’ প্রতীক।
একই জোটের দুই প্রার্থীর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বুধবার বিকেলে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় প্রেস ব্রিফিং করে খেলাফত মজলিস। সেখানে দলের নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আহমদ আলী কাসেমী বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিস এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচন করবে। জামায়াতে ইসলামী বাকি চারটি আসনে নির্বাচন করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমিনের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. জেহাদ খানের পক্ষে তাদের দলের প্রার্থী আতাউর রহমান শাহান সরে দাঁড়ান। একইভাবে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের মোছাদ্দেক ভূঞা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদী তা করেননি, যা ঠিক হয়নি। ফলে এই আসনে দুই প্রার্থী থাকায় জোটের কেন্দ্র থেকে বাধ্য হয়ে আসনটি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আহমদ আলী কাসেমীর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত আপাতত এই আসনে কোনো প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবে না। তবে নির্বাচনের আগে জোট থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা এলে জামায়াত সক্রিয় হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচন কতটা সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে—এ নিয়ে সংশয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যে নতুন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের নির্বাচনমুখী হতে হবে।’
অন্যদিকে, এই আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদী। তিনি বুধবার রাতে বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং আহমদ আলী কাসেমীকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার কথা ছিল।’
এ বিষয়ে আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘প্রথমে আমাদের দলের জেলা আমির হিফজুর রহমান খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে।’







