রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৮ ১৪৩২
রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৮ ১৪৩২

সরকার ব্যাখ্যা দিলো গুগলে কনটেন্ট সরানোর ২৭৯ অনুরোধের বিষয়ে

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সরকার ব্যাখ্যা দিলো গুগলে কনটেন্ট সরানোর ২৭৯ অনুরোধের বিষয়ে

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গুগলের কাছে বাংলাদেশ থেকে ২৭৯টি কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ পাঠানো হয়েছে—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে দেওয়া বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নাগরিকদের যে কোনো সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ভিডিও, রিলস বা অনলাইনে প্রকাশিত আর্টিকেল সরানোর জন্য সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি। শুধুমাত্র মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন–কেন্দ্রিক বেআইনি মানহানিকর তথ্য অপসারণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসি’র কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়।

সরকার স্পষ্ট করেছে, বর্তমান প্রশাসন সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে কোনো রাজনৈতিক বট বা বাহিনী পরিচালনা করে না। বাংলাদেশে কোনো সরকারি এজেন্সি সরাসরি কন্টেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না, তাই সব অনুরোধ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জানানো হয়। গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৭৯টি অনুরোধ এসেছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের একই সময়কালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সরকার জানিয়েছে, এসব অনুরোধের ৬৫ শতাংশ ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে পড়ে, অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ নয়। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মিডিয়া ও সাইবার স্পেসে দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকারের রিপোর্টগুলো মিসইনফরমেশন প্রতিরোধ, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন কার্যকর হওয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিচার শুরু এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সময় সাইবার স্পেসে রাজনৈতিক প্রচারণা ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো হয়েছে। সরকারের রিপোর্টিং কার্যক্রম এই ধরনের পরিস্থিতিতে সোশ্যাল হারমনি রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক ও নৃতাত্ত্বিক সম্প্রীতি রক্ষায় সহায়তা করে।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ও সূচকে দেশের বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ফ্রিডম হাউসের “Freedom on the Net 2025” রিপোর্টে বাংলাদেশকে একক দেশ হিসেবে ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জনের স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর ইন্টারনেট বন্ধ প্রতিরোধ এবং সাইবার সুরক্ষা সংস্কারের ফলে দেশের স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে ৪৫-এ উন্নীত হয়েছে।

সরকার নাগরিকদের আশ্বাস দিয়েছে, রাজনৈতিক সমালোচনা বা সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ করা হয়নি। শুধুমাত্র দেশের সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মিসইনফরমেশন প্রতিরোধই এই অনুরোধের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।