সরকার ব্যাখ্যা দিলো গুগলে কনটেন্ট সরানোর ২৭৯ অনুরোধের বিষয়ে
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গুগলের কাছে বাংলাদেশ থেকে ২৭৯টি কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ পাঠানো হয়েছে—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে দেওয়া বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নাগরিকদের যে কোনো সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ভিডিও, রিলস বা অনলাইনে প্রকাশিত আর্টিকেল সরানোর জন্য সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি। শুধুমাত্র মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন–কেন্দ্রিক বেআইনি মানহানিকর তথ্য অপসারণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসি’র কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়।
সরকার স্পষ্ট করেছে, বর্তমান প্রশাসন সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে কোনো রাজনৈতিক বট বা বাহিনী পরিচালনা করে না। বাংলাদেশে কোনো সরকারি এজেন্সি সরাসরি কন্টেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না, তাই সব অনুরোধ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জানানো হয়। গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৭৯টি অনুরোধ এসেছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের একই সময়কালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সরকার জানিয়েছে, এসব অনুরোধের ৬৫ শতাংশ ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে পড়ে, অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ নয়। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মিডিয়া ও সাইবার স্পেসে দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকারের রিপোর্টগুলো মিসইনফরমেশন প্রতিরোধ, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন কার্যকর হওয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিচার শুরু এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সময় সাইবার স্পেসে রাজনৈতিক প্রচারণা ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো হয়েছে। সরকারের রিপোর্টিং কার্যক্রম এই ধরনের পরিস্থিতিতে সোশ্যাল হারমনি রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক ও নৃতাত্ত্বিক সম্প্রীতি রক্ষায় সহায়তা করে।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ও সূচকে দেশের বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ফ্রিডম হাউসের “Freedom on the Net 2025” রিপোর্টে বাংলাদেশকে একক দেশ হিসেবে ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জনের স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর ইন্টারনেট বন্ধ প্রতিরোধ এবং সাইবার সুরক্ষা সংস্কারের ফলে দেশের স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে ৪৫-এ উন্নীত হয়েছে।
সরকার নাগরিকদের আশ্বাস দিয়েছে, রাজনৈতিক সমালোচনা বা সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ করা হয়নি। শুধুমাত্র দেশের সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মিসইনফরমেশন প্রতিরোধই এই অনুরোধের মূল উদ্দেশ্য ছিল।










