শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুই ককটেল নিক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুই ককটেল নিক্ষেপ

রাজধানীর আগারগাঁও লিংক রোডে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। অন্যটি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।

এ ঘটনায় জড়িত দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।

তিনি বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলে এসে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় তাঁরা আশপাশ পর্যবেক্ষণ করেন। পরে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে সেখান থেকে চলে যান। তাঁরা আগারগাঁও হয়ে কাফরুল রোডের দিকে চলে গেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

ডিসি ইবনে মিজান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের দল মাঠে নামে। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। রাতে দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সকালে প্রতিষ্ঠানগুলো খুললে ফুটেজ সংগ্রহ করে পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।

বিস্ফোরিত না হওয়া ককটেলটি পরীক্ষা করে বোম ডিসপোজাল ইউনিট কোনো স্প্লিন্টার বা ক্ষতিকর উপাদান পায়নি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বস্তুটি অনেকটা পটকার মতো ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এ ঘটনার পর পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিসি ইবনে মিজান বলেন, দুর্বৃত্তরা মূল সড়ক এড়িয়ে লিংক রোড দিয়ে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে চলে যায়। মূল সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও তারা বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিএমপির বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৬ জন, লালবাগে ৫৯, ওয়ারীতে ৭৫, মতিঝিলে ৮২, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মিরপুরে ৯০, গুলশানে ৪৭, উত্তরা বিভাগে ৪৩, গোয়েন্দা বিভাগে ১১ এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অভিযানে একজন রয়েছেন।

অভিযানকালে ৭৫ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৪৪২ পিস ইয়াবা, ৭ গ্রাম হেরোইন ও দুই ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি কাভার্ড ভ্যান, দুটি মোটরসাইকেল, নয়টি মোবাইল ফোন, একজন ভিকটিম এবং নগদ ২ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মো. আকতার হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানে সামরিক শাসনের সূচনা ১৯৫৮ সালে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে সামরিক শাসনের সূচনা ১৯৫৮ সালে

১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর। আজ থেকে ৬৮ বছর আগে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নেমে আসে অন্ধকার। ১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত ভাগের মধ্য দিয়ে দেশটি প্রতিষ্ঠার মাত্র ১১ বছরের মাথায় গণতন্ত্রের বিকাশের সম্ভাবনা কার্যত নস্যাৎ হয়ে যায়। পাকিস্তান এগিয়ে যায় দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের পথে।

সেদিন এক হঠকারী পদক্ষেপে দেশটির প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন, সংবিধান বাতিল করেন এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। নিষিদ্ধ করা হয় সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড। এর পরপরই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিপুলসংখ্যক রাজনীতিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গণতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান ঘটানোর এই পরিকল্পনায় মির্জার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান। বহু বছর পর নিজের স্মৃতিকথায় আইয়ুব জানান, ১৯৫৪ সালেই ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার অংশ হয়ে উঠেছিল। তখন তিনি সেনাপ্রধানের পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনীতিকদের প্রতি মির্জা ও আইয়ুব—দুজনেরই ছিল গভীর অবজ্ঞা।

১৯৫৯ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। ওই নির্বাচন দেশটিকে প্রতিবেশী ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোর কাতারে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারত। কিন্তু ক্ষমতার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষী আইয়ুব ও মির্জা রাজনীতিকদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে রাজি ছিলেন না।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার নয় বছর পর, ১৯৫৬ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আইয়ুব খুরোসহ অন্য রাজনীতিকদের প্রচেষ্টায় দেশটির জন্য একটি সংবিধান প্রণীত হয়। কিন্তু সেই অর্জনও তাঁদের কাছে গুরুত্ব পায়নি।

এর আগে অসুস্থ গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ইস্কান্দার মির্জা। ১৯৫৬ সালের সংবিধানের অধীনে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ব্রিটিশ ওয়েস্টমিনস্টার ধারার আদলে প্রণীত ওই সংবিধানে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল, এর মাধ্যমে দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

কিন্তু ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মির্জা সেই সংবিধানই লঙ্ঘন করেন, যার ভিত্তিতে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

সামরিক শাসন জারির পর মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন। এর মধ্যে ছিল নির্মম পরিহাস। আইয়ুবকে এত ক্ষমতাশালী পদে বসিয়ে মির্জা যে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই বিপন্ন করছেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি। দুজনই ছিলেন কৌশলী। শেষ পর্যন্ত বেশি কৌশলী আইয়ুবই জয়ী হন।

এর আগে মির্জা একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পান লারকানার বিদেশে শিক্ষিত তরুণ আইনজীবী জুলফিকার আলী ভুট্টো। মির্জার ছেলে হুমায়ুন মির্জার বন্ধু ভুট্টো মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে প্রেসিডেন্টকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে তিনি এমন কথাও বলেছিলেন, যা বিস্ময় জাগায়। তাঁর মতে, ইতিহাসে মির্জাকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর চেয়েও মহান ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করা হবে।

সামরিক শাসন ঘোষণার পরের ২০ দিন আইয়ুব খান অধৈর্য হয়ে কাটান। মির্জার সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে তাঁকে অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছিল। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর ভেতরে আইয়ুব ও তাঁর সহযোগী কর্মকর্তারা যে মির্জার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ছিলেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। জেনারেল বুরকি, কে এম শেখ, মুসা ও ইয়াহিয়া খানসহ আইয়ুবের অনুগত কর্মকর্তারা মনে করতেন, একই রাষ্ট্রে দুই ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকা সম্ভব নয়। তাঁদের মতে, মির্জাকে সরাতেই হবে।

২৭ অক্টোবর ওই কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে, যাঁদের মধ্যে ইয়াহিয়া খানও ছিলেন, করাচিতে মির্জার সরকারি বাসভবনে পাঠানো হয়। তখন করাচিই ছিল পাকিস্তানের রাজধানী। সেখানে তাঁকে বন্দুকের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। মির্জা ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদকে বিমানে করে কোয়েটায় পাঠানো হয়। কয়েক দিন পর তাঁদের লন্ডনে নির্বাসনে পাঠানো হয়। মির্জাকে আর কখনো পাকিস্তানে ফিরতে দেওয়া হয়নি।

২৭ অক্টোবর থেকে আইয়ুব খানের হাতে চলে আসে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। তিনি তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক—দুই পদেই অধিষ্ঠিত। তিনি একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন, যার অধিকাংশ সদস্য ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা। তবে কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তিকেও রাখা হয়। তরুণ ভুট্টো দ্রুত নিজের অবস্থান পাল্টে আইয়ুবকে বোঝান যে তাঁর দলে থাকতে পেরে তিনি খুশি। ভবিষ্যতে ভুট্টোর রাজনীতিকে যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রভাবিত করবে, এটি ছিল তার প্রাথমিক ইঙ্গিত।

এদিকে প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মুনিরের নেতৃত্বাধীন উচ্চ আদালত ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’ বা ডকট্রিন অব নেসেসিটি প্রয়োগ করে সামরিক শাসন জারি ও আইয়ুবের ক্ষমতা দখলকে আইনি বৈধতা দেয়। পরবর্তী বছরগুলোতে এই বিতর্কিত পদক্ষেপ উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তাদের পাকিস্তানের রাজনীতিতে যথেচ্ছ হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়।

বিচারপতি মুনির সেই একই ব্যক্তি, যাঁর নেতৃত্বে ১৯৫৪ সালে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ কর্তৃক গণপরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মৌলভি তমিজউদ্দিন খানের আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করা হয়েছিল। সে সময়ও প্রয়োগ করা হয়েছিল ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’। চার বছর পর মুনির আবারও একই ধরনের ভূমিকা নেন। আইয়ুবের ক্ষমতা দখলকে তিনি ফরাসি ও রুশ বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। অথচ আইয়ুবের ক্ষমতা দখল কোনোভাবেই ওই বিপ্লবগুলোর সমতুল্য ছিল না।

১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা ও আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হয়ে দাঁড়ায়। লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে মির্জাকে শেষ পর্যন্ত একটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপকের কাজ করতে হয়েছিল। তবু তিনি নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

অন্যদিকে, আইয়ুব খান পাকিস্তানকে নিজের পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। ১৯৫৯ সালে তাঁর সরকার কুখ্যাত ইলেকটিভ বডিজ ডিসকোয়ালিফিকেশন অর্ডিন্যান্স বা ইবিডিও জারি করে। এর লক্ষ্য ছিল রাজনীতিকদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। কোনো যুদ্ধে বীরত্ব দেখানো ছাড়াই নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা এই জেনারেল প্রথম চার বছর সামরিক আইনের অধীনে পাকিস্তান শাসন করেন।

১৯৬২ সালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। তবে ওই সংবিধানের উদ্দেশ্য ছিল সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা। সর্বজনীন ভোটাধিকারের পরিবর্তে মাত্র ৮০ হাজার সদস্যের একটি নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়।

সামরিক আইন প্রত্যাহার হলেও গণতান্ত্রিক রাজনীতির সূচনা হয়নি। ক্ষমতায় থাকা পুরো দশ বছরই আইয়ুব ছিলেন একজন স্বৈরশাসক। পাকিস্তানে একটি জাতীয় পরিষদ এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি প্রাদেশিক পরিষদ গঠন করা হয়। এসব পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হতেন ‘বেসিক ডেমোক্র্যাটস’ নামে পরিচিত ওই ৮০ হাজার ব্যক্তি। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান গভর্নর নিয়োগের ক্ষমতা নিজের হাতে রাখেন। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল আজম খান ও গোলাম ফারুকের মতো ব্যক্তিদের নিয়োগ ও অপসারণ তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

আবদুল মোনেম খান নামের এক স্বল্পপরিচিত বাঙালি আইনজীবী ও আইয়ুবের অনুগত ব্যক্তি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানে প্রভাবশালী কালাবাগের নবাব মালিক আমির মোহাম্মদ খান কয়েক বছর গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়া জেনারেল মোহাম্মদ মুসা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

বেসামরিক রাজনীতিকের পরিচয় নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে আইয়ুব খান মুসলিম লীগকে বিভক্ত করেন। দলটির একটি অংশ নিয়ে তিনি গঠন করেন কনভেনশন মুসলিম লীগ।

ক্ষমতায় থাকার দশ বছরে আইয়ুব এমন একটি বেসামরিক-সামরিক ক্ষমতাকাঠামো গড়ে তোলেন, যা রাজনীতিকে দুর্বল করে এবং পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের একাংশের তোষামোদ ছিল বিব্রতকর পর্যায়ের। আইয়ুবের স্মৃতিকথা ‘ফ্রেন্ডস নট মাস্টার্স’ বা ‘প্রভু নয়, বন্ধু’ অন্যের হাতে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

১৯৬৩ সালে মোহাম্মদ আলী বগরার মৃত্যুর পর ভুট্টো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৬৫ সালে আইয়ুব ও ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের পরিণতিতে ১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর সঙ্গে আইয়ুব খানকে তাসখন্দ ঘোষণা প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর করতে হয়।

উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভুট্টো ওই ঘোষণায় একটি ‘গোপন ধারা’ রয়েছে বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সরকার থেকে বেরিয়ে আসেন এবং নিজের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক আইয়ুবের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেন।

পূর্ব পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে আইয়ুব খান সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিহাসের বিষয়, সেই মামলাই শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খানের পতনের পথ তৈরি করে।

আইয়ুবের অনুরাগীরা তাঁকে এশিয়ার চার্লস দ্য গলের সমতুল্য নেতা হিসেবে তুলে ধরতেন। তাঁর শাসনামলকে তাঁরা ‘উন্নয়নের দশক’ বলে আখ্যা দিতেন। কিন্তু এই উদ্‌যাপনের সময়েই পাকিস্তানের দুই অংশে তাঁর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধছিল।

১৯৬৯ সালের শুরুতে আইয়ুব গভীর সংকটে পড়েন। আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে তিনি বাধ্য হন। নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাওয়ালপিন্ডিতে গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। এর আগে খান আবদুল ওয়ালি খান ও ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদেরও মুক্তি দিতে হয়।

১৯৬৯ সালের মার্চে আইয়ুব খানের ক্ষমতা ছাড়ার ঘটনাটিও ছিল গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা। ১৯৬২ সালের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের স্পিকার আবদুল জব্বার খানের হাতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও আইয়ুব তা করেননি। তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে। ইয়াহিয়া সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানে নতুন করে সামরিক আইন জারি করেন।

ইস্কান্দার মির্জা ও আইয়ুব খান পাকিস্তানের যে ক্ষতি করেছিলেন, তা দেশটির ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে আইয়ুব মারা যান বিস্মৃত ও অনেকটা উপেক্ষিত অবস্থায়। ইস্কান্দার মির্জা ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে লন্ডনে মারা যান। ইয়াহিয়া খান তাঁর মরদেহ পাকিস্তানে সমাহিত করার অনুমতি দেননি। ফলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তেহরানে দাফন করেন।

১৯৫৮ সালের অক্টোবরের পর পাকিস্তান আরও তিন দফা সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেছে—ইয়াহিয়া খান, জিয়াউল হক ও পারভেজ মোশাররফের শাসনামলে। ক্ষমতা দখলের দুই বছর পর জেনারেল আইয়ুব খান নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেছিলেন। আর ইসলামাবাদের বর্তমান ক্ষমতাধর আসিম মুনিরকে জেনারেল থেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেছে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট বেসামরিক সরকার।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে: আমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে: আমান

গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রত্যাশা থেকেই জনগণ এবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে শহীদ জিহাদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলেও আওয়ামী লীগ আবার স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে ফিরে এসেছিল। শত শত গুম-খুনের পর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আবারও রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হয়েছে। এভাবে আর রক্ত দিতে চান না তাঁরা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৯০ সালে খালেদা জিয়ার ডাকে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চালায় এরশাদ সরকারের প্রশাসন। ওই দিন রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন জিহাদ।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের পতনের আন্দোলনে শহীদ জিহাদ পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন।