গাজী নজরুল ও গাড়িচালক ওবায়দুরের জামিন ফের নামঞ্জুর
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বাদীপক্ষের আপসনামা ও আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, গাজী নজরুলকে জামিন দেওয়া হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষের জামিনে কোনো আপত্তি নেই। এ ছাড়া গাজী নজরুল অসুস্থ ও বয়স্ক হওয়ায় তাঁকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, মামলাটি অনাপসযোগ্য ধারায় হওয়ায় আপসের ভিত্তিতে জামিন চাওয়া আইনসঙ্গত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ও ওবায়দুরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, আসামি বয়স্ক হলেও ভিকটিম অতি অল্পবয়সী। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন। এ মামলায় আসামিকে জামিন দেওয়া হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হলো।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। গাজী নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array