অনুমোদন ছাড়াই চলছে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ১৭ প্রতিষ্ঠান
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে ১৭টি স্টাডি সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল এমনকি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগের কথাও প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রম পরিচালনায় ইউজিসির অনুমোদন নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ৩০ মার্চ অনুমোদনহীন শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টারের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল ইউজিসি। কিন্তু এরপরও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অর্থ ব্যয় করে ডিগ্রি অর্জনের পর তার স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার অনুমোদনের বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।
ইউজিসির তালিকায় থাকা ১৭টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের নামের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তালিকায় সুইজারল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও হিসাববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কোর্সে এমফিল, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল পর্যায়ের ডিগ্রির কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করলেই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ডিগ্রি দিচ্ছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এসব ডিগ্রির স্বীকৃতি ও সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ইউজিসির তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ, ভূঁইয়া একাডেমি, ব্যাক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, নিউক্যাসল ল একাডেমি, ব্রিটিশ স্কুল অব ল, লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ, লন্ডন স্কুল অব কমার্স ঢাকা, লিংকনস হায়ার এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট এবং কিংস্টন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকলেও ইউজিসির অনুমোদন নেই।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘অনুমোদনহীন এসব স্টাডি সেন্টার এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি জানান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার অনুমোদনের ২০১৪ সালের বিধিমালা যুগোপযোগী নয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, ইউজিসির অনুমতি ছাড়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার সুযোগ নেই। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত কোর্স, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তির তথ্য জমা দিতে হয়।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চের নির্দেশনার পর ২৫ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। ওই সময় মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। তবে সেগুলোও অনুমোদনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
নির্দেশনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা অর্থ ব্যয় করে এমন ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন, যার স্বীকৃতি দেশে চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে অনিশ্চিত থেকে যেতে পারে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা যাচাই করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এড়াতে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিদেশি ডিগ্রির স্বীকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।













Disqus comments are not configured yet.