বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইশরাক। এ সময় গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার ঘণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। অভিযানে নিজের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কারণ, মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এবং অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কেও বক্তব্য দেন ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাকের কর্মী-সমর্থকদের স্লোগান ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে।
ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য মাদক নির্মূল হলেও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, এ পরিস্থিতিতে সরকারের কর্মকাণ্ড আড়ালে পড়ে যাচ্ছে এবং দলও বিব্রত হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। ইশরাকের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে বলেছেন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘণ্টিঘর এলাকার মাদক সমস্যা সমাধানে তিনি একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মাসিক বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সরবরাহের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি অভিযানে অংশ নেন।
ইশরাক জানান, ওই এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাবও এসেছিল। এ বিষয়ে তিনি আধা-সরকারি পত্রের (ডিও লেটার) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার পরও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সর্বশেষ বৈঠকে ঘণ্টিঘর এলাকার মাদক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশের জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশকে সঙ্গে করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এলাকাটি মাদকমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইশরাকের ভাষ্য, গত ১২ আগস্ট ওই এলাকায় মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন বলে তাঁরা জানতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযানের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযানের সময় নিজের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বিষয়ে ইশরাক বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তাঁর বৈধ লাইসেন্স করা একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অভিযানের সময় সরকারের দেওয়া নিরাপত্তাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর দাবি, অভিযানের স্থানে প্রবেশের পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দলকে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তখন আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিনি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে নেন। ইশরাক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর হাতে অস্ত্র দেখা গেলেও পরে তিনি সেটি পকেটে রেখে দেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁরা পায়ে হেঁটে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। এ সময় গেন্ডারিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান বলে জানান তিনি।
ইশরাকের দাবি, অভিযানের সময় কয়েকটি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে চুরি বা ছিনতাই করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন অনেক মোবাইল ফোন, স্কুলব্যাগভর্তি মোবাইল ফোন, প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইনের প্যাকেট, কয়েক বোতল মদ এবং চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, পুলিশের উপস্থিতিতে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বাড়ির মালিকানা এবং উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ইশরাক বলেন, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিচার নিশ্চিত করা। অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরে মাদক সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী স্থাপনাগুলো তাঁর সঙ্গে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা ভেঙে দেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন ইশরাক। উদ্ধার হওয়া আলামতও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইশরাক বলেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক নির্মূল করা। কিন্তু গণমাধ্যমের একটি অংশ অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশ করায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধটা তো মাদকের বিরুদ্ধে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই, দলীয় কোনো স্বার্থ নেই, রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই।’
ইশরাকের দাবি, ঘণ্টিঘর এলাকায় শুধু মাদক সেবন নয়, মাদক সরবরাহের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ফজলুল হক মহিলা কলেজ, গেন্ডারিয়া কলেজ ও মনিজা রহমান কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক সরবরাহের অভিযোগও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইশরাক বলেন, মাদকের মূল সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করা ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। শুধু রাস্তার পর্যায়ের বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে স্থায়ী সমাধান হবে না। এ জন্য মাদকের মূল সরবরাহকারী ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
অভিযানের মাধ্যমে কারও ক্ষতি হয়ে থাকলে বা কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন ইশরাক। তবে নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনে যতটুকু সময় দরকার ছিল, ততটুকু সময়ই অস্ত্র হাতে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কোনো ভুল করেননি বলেও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। এ লড়াই চালিয়ে যেতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

করিমগঞ্জে গভীর রাতে পেট্রোল ঢেলে পিকআপে আগুন

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে গভীর রাতে পেট্রোল ঢেলে পিকআপে আগুন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বাড়ির পাশে পার্ক করে রাখা একটি জেক পিকআপে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গাড়িটির ভেতরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় আনুমানিক ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাড়ির মালিক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ উপজেলার কিরাটন ইউনিয়নের কিরাটন গাংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহীন ইসলাম (৩৫) জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন জেক পিকআপটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৬৬৯০) নিজ বাড়ির সামনে কবরস্থানসংলগ্ন একটি কাঁচা রাস্তায় পার্ক করে রেখেছিলেন। গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাড়ির লোকজনের ডাক-চিৎকারে ঘুম ভাঙলে তিনি বাইরে এসে গাড়িটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন (২৮), মো. ইসমাইল (২৭), আতিবুর মিয়াসহ (৩৬) আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গাড়িটির ভেতরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। এতে গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিক শাহীন ইসলাম জানান, পিকআপটি ভাড়ায় চালিয়ে তিনি কোনোমতে সংসার চালাতেন। এটি ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। গাড়িটি পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ ঘটনায় তিনি করিমগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কিরাটন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতায় কিশোরগঞ্জে যুবদলের লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতায় কিশোরগঞ্জে যুবদলের লিফলেট বিতরণ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে লিফলেট বিতরণ করেছে জেলা যুবদল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীনের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় শহরের বিভিন্ন সড়কে পথচারী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (অফ পেভমেন্ট) কার্যক্রমে নিয়োজিত লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) শ্রমিকদের মধ্যে সঞ্চয়ী অর্থের চেক বিতরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন মেয়াদ শেষে কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পাওয়া ২৬ জন শ্রমিকের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম চালিকাশক্তি মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সাফল্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার জনকল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ জন শ্রমিকের হাতে জনপ্রতি ১ লাখ ৯ হাজার টাকার সঞ্চয়ী অর্থের চেক তুলে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিক ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. এইচ. এম. ইজাজুল হক, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলী জিন্নাহ এবং কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে বেলা ১১টার দিকে ছয়সূতী ইউনিয়নের জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

দুপুর ১২টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কুলিয়ারচরের কালী নদীর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।