মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

অর্থসংকটে গাজায় খাদ্য সহায়তা কমাল ডব্লিউএফপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অর্থসংকটে গাজায় খাদ্য সহায়তা কমাল ডব্লিউএফপি

শীতের আগমুহূর্তে অর্থসংকটের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জরুরি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রীর বরাদ্দ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বেকারত্ব ও নাজুক জীবনযাত্রার মধ্যে নতুন এই সংকট গাজার অসহায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ডব্লিউএফপি জানায়, অর্থের অভাবে গাজায় তাদের সহায়তার আওতা কমাতে হয়েছে। গত মাসে প্রায় ১৬ লাখ মানুষকে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেওয়া হলেও চলতি মাসে তা কমিয়ে ১১ লাখে আনা হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে খাদ্য প্যাকেট, গমের আটা, রুটি, রান্না করা খাবার, পুষ্টিসহায়তা, স্কুলের নাশতা ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিচ্ছিল সংস্থাটি। গত তিন বছরে গাজার বহু পরিবারের জন্য এই সহায়তা বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

অর্থসংকটের প্রভাব সরাসরি পড়েছে খাদ্য সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর ওপর। আগে একটি পরিবারকে দুটি খাদ্য প্যাকেট দেওয়া হলেও এখন দেওয়া হবে একটি। একই সঙ্গে গমের আটার পরিমাণও কমানো হয়েছে। ফলে সীমিত খাদ্য দিয়ে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও কাটছাঁট করা হয়েছে। গাজার ৭৫ হাজার পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে ডব্লিউএফপি। এ ছাড়া প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণের সংখ্যাও আড়াই লাখ থেকে কমিয়ে দেড় লাখে নামানো হচ্ছে।

দুর্গম এলাকায় এবং ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের ‘হলুদ রেখা’র কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের পরিবর্তে এক দিন পরপর রান্না করা খাবার দেওয়া হবে। এতে নিয়মিত খাবারের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে কিছু কার্যক্রম চালু রাখছে সংস্থাটি। গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রুটির চাহিদা পূরণকারী বেকারিগুলোতে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তিন লাখ নারী ও শিশুকে পুষ্টিসহায়তা এবং দুই লাখ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যকর স্কুলের নাশতা দেওয়ার কার্যক্রমও চালু থাকবে।

গাজায় খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন উপত্যকাটির ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। বাজারে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া গেলেও আয় না থাকায় বহু পরিবারের পক্ষে তাজা শাকসবজি ও আমিষসমৃদ্ধ খাবার কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

ডব্লিউএফপির হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ—অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ—সংকটপূর্ণ বা আরও গুরুতর পর্যায়ের খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এ হার ছিল ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো নাজুক।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জরুরি খাদ্য সহায়তা না পেলে প্রায় দুই লাখ মানুষ অনাহারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। শিশুদের পুষ্টির অবস্থাও উদ্বেগজনক। গাজার প্রতি পাঁচটি শিশুর মধ্যে মাত্র একটি পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার পায়। স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় প্রবেশাধিকারও সীমিত।

শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত সহায়তা এবং শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের অপুষ্টি প্রতিরোধে দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ফিলিস্তিনে তাদের কার্যক্রমের জন্য পাওয়া অর্থের পরিমাণ আগের কয়েক বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। গাজা ও পশ্চিম তীরে আগামী মার্চ পর্যন্ত জরুরি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে তাদের ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন।

অর্থসংকটের প্রভাব গাজার বাইরেও পড়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত সেপ্টেম্বরে সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা চার লাখ থেকে কমিয়ে দুই লাখে নামানো হয়েছে।

খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শীতের মধ্যে পর্যাপ্ত খাবার, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা না গেলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশু, নারী ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদির কাছে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদির কাছে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ

সৌদি আরবের আদালতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ। তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা রায়ের কপি হাতে পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানাতে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারব।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক পুরুষ ও এক নারী বাংলাদেশি প্রবাসীর বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে ফেসবুকের পোস্ট দেখে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর ঢাকা বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সৌদি আরবের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। এখন জেদ্দার জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিরতিতে দেশটিতে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সেখানে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে পাঠায় বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই দুই ব্যক্তির নাম ওই তালিকায় রয়েছে কি না, আমরা তা যাচাই করছি।’

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিরা যেন নিরাপদে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে ধৈর্য ধরুন এবং আমাদের রায়ের কপি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর আমরা বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানাতে পারব।’

সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে সরকার যোগাযোগ করেছে কি না, জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ জানান, মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো বিস্তারিত তথ্য নেই। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াকে ‘খুবই ইতিবাচক’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। দেশটি বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম বড় উৎসও।

ডলারের দর সামলাতে বাজারে ২ কোটি ডলার বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
ডলারের দর সামলাতে বাজারে ২ কোটি ডলার বিক্রি

ডলারের বিনিময় হার ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে এসব ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ১ কোটি ১৫ লাখ (১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা দরে বিক্রি করা হয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রতি ডলার বিক্রি করা হয়েছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা দরে। অর্থাৎ আগেরবারের তুলনায় এবার প্রতি ডলারে ৮৫ পয়সা বেশি দামে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কুলিয়ারচরে শিশুর গলায় ছুরি ধরে প্রবাসীর বিয়ের গয়না লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে শিশুর গলায় ছুরি ধরে প্রবাসীর বিয়ের গয়না লুট

প্রায় চার বছর ওমানে কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মানিকদী নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম (২৫)। দেশে ফেরার আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল নতুন জীবনের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে মুঠোফোনে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রীকে ঘরে তোলার কথা ছিল তাঁর। এ জন্য বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আনতে মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন স্বজনেরা। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। সড়কে ডাকাতের কবলে পড়ে বিয়ের জন্য কেনা স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারান তাঁরা।

রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল মাইক্রোবাসটির পথরোধ করে। এ সময় পাঁচ বছরের এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখিয়ে বিয়ের জন্য কেনা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী থাকা লাগেজ নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

ডাকাতির পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ডের দিকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শরীফুলকে বিমানবন্দর থেকে আনতে তাঁর বাবা আপুস মিয়া, বোন ও পাঁচ বছর বয়সী ভাগনে তাকরিম একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকায় যান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চালক সাইমন। তিনি শরীফুলের ফুফাতো ভাই এবং একই এলাকার বাসিন্দা।

রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। ভোর ৪টার দিকে ভৈরবের নাভানা পাম্পে গ্যাস নেওয়ার পর কুলিয়ারচরের দিকে যাত্রা করেন। প্রায় ২০ মিনিট পর দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল তাঁদের গাড়ির পথরোধ করে।

মাইক্রোবাসচালক সাইমন বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা গাড়িতে থাকা শিশু তাকরিমের গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখায়। এ সময় শরীফুল ইসলামের সঙ্গে ডাকাতদের কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। পরে গাড়ির পেছনে থাকা লাগেজ নিয়ে যায় তারা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ডাকাতেরা মাইক্রোবাসে থাকা বড় আকারের কয়েকটি মালামালের কার্টনও নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কার্টনগুলো ভারী হওয়ায় কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো রাস্তার পাশে ফেলে যায়। যে লাগেজটি নিয়ে যায়, তাতেই শরীফুলের বিয়ের জন্য কেনা স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতির সময় পুলিশ ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিল। ডাকাতেরা ওই দিক দিয়ে পালিয়ে গেলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অবস্থা এতটা খারাপ হয়েছে, তা বুঝতে পারিনি। চার বছর পর দেশে ফিরলাম বিয়ে করার জন্য। বিয়ের অলংকার থেকে শুরু করে মূল্যবান সব জিনিসপত্র যে লাগেজে ছিল, সেটিই নিয়ে গেছে। এমনকি আমার পাঁচ বছরের ভাগনের গলায় ছুরি ধরেছে। বিয়েসহ সবকিছু ঠিকঠাক ছিল, এখন বাধ্য হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের সময়টাও পরিবর্তন করতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন সড়কে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে নোয়াগাঁও, আগরপুর, বাজরা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে নোয়াগাঁও এলাকায় রিফ্লেকটিভ ভেস্ট পরা কয়েকজন ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে যাত্রীদের মালামাল লুট করেন। এর আগের দিন, ২৭ আগস্ট, বাজরা বাসস্ট্যান্ডে মাইক্রোবাস আটকে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ১ অক্টোবর রাতে আগরপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে এক মোটরসাইকেলচালককে জখম করে তাঁর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরদিন, ২ অক্টোবর রাতে উত্তর লক্ষ্মীপুর–রাজগোপাট সড়কে এক যুবককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগও পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার বাইরেও গত দুই মাসে আরও একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। নোয়াগাঁও, আগরপুর, বাজরা ও আশপাশের সড়কে রাতের বেলায় এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব সড়কে নিরাপত্তা জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।